পশ্চিমবঙ্গে এক মুসলিম শি’ক্ষার্থীকে নিয়ে নোং’রা খেলা

ইমান২৪.কম: সম্প্রতি ভারতের পশ্চি’মবঙ্গ রাজ্যের যাদবপুর কেলেঙ্কারির পর পুরোদস্তুর নোং’রামি শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। গত ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসা রটানোর কাজে নেমেছে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চা বাহিনী।

শুধুমাত্র কুৎসা বা কুরুচিকর মন্তব্যেই আটকে থাকছে না। একেবারে খুনের হু’মকিও দেয়া হচ্ছে যাদবপুরের ছাত্রদের। হু’মকির শিকার হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্রী শিল্পী আফ্রিন। গত শুক্রবার ও শনিবার তার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেয়া হয়।

আর তারপর থেকেই সেই ছবির নিচে শুরু হয় কুরুচিকর মন্তব্য। ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনার দিন একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দেখা গেছে, এবিভিপির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয়কে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন এক ছাত্রী।

সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ওই ছাত্রীকে শিল্পী আফ্রিন নামে চালানোর চেষ্টা করছে বিজেপি, এবিভিপি ও সংঘের অনুগামীরা। শুধু তাই নয়, বাড়ি গিয়ে খুনের হু’মকিও দেয়া হয় শিল্পী আফ্রিন নামে ওই ছাত্রীকে।

তাদের মন্তব্যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের দিকটি আরো বেশি করে চোখে পড়ার মতো। মুসলিম হওয়ার দরুণ আরো কুরুচিকর মন্তব্য ছুড়ে দেয়া হয়েছে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে। শিল্পী আফ্রিন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘‌আমার বিরুদ্ধে কুরুচিকর যৌ’ন ই’ঙ্গিত দেয়া হচ্ছে।

যে ছবিটি ভাইরাল করা হয়েছে, সেই ছবিতে আমি নেই। গত ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় এবিভিপির লোকেরা আমাদের ইউনিয়ম ঘর ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তারই একটি ছবি আমি ফেসবুকে পোস্ট করি। তারপর থেকেই আমায় বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো শুরু হয়।

যারা এইসব কুরু’চিকর মন্তব্য করছেন, তাদের বেশ কয়েকজনের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেটে দেখেছি, তারা প্রত্যেকেই বিজেপি ও এবিভিপির সমর্থক।’ ‌গোটা ঘটনায় রীতিমতো আ’ত’ঙ্কে রয়েছে শিল্পী আফ্রিনের পরিবার।

বাধ্য হয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকা’উন্টও ব’ন্ধ করে দিতে হয়েছে যাদবপুরের ছাত্রীকে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যাদবপুরের ঘটনার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, ‘‌বাবুলের চরিত্র আমরা জানি। কিন্তু ওরা (যাদবপুরের ছাত্রীরা)‌ কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কি না জানতে চাইছি।’‌

ফেসবুকে লাইক দিন