পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন পুরোদমে চলবেই : উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে সাথে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা রডং সিনমুন একথা জানিয়েছে।

আমেরিকা উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার যে বাসনা পোষণ করে তাকে ‘বোকামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পত্রিকাটিতে লিখা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইেড্রোজেন বোমা রয়েছে। এ ছাড়াও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেয়ার জন্য পিয়ংইয়ং সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলেও রডং সিনমুন জানিয়েছে।

একদিকে কোরীয় উপদ্বীপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে আমেরিকা অন্যদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া শক্তভাবে বলে দিয়েছে, যতদিন তাদের দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার উসকানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না হবে ততদিন কোন কর্মসূচি স্থগিত হবে না।

অন্য়দিকে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ওপর চাপ বাড়াতে উত্তর কোরিয়ার ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা তা জানাননি তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের নিষেধাজ্ঞা এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি ট্রাম্প। বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা হলো প্রথম পর্যায়ের পদক্ষেপ। এতে কাজ না হলে ভিন্ন পথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়ার ওপর কার্যকর প্রভাব ফেলছে। ফলে পারমানবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করার মতো অর্থ পিয়ংইয়ংয়ের থাকছে না। তাই ক্ষতি পোষাতে উত্তর কোরিয়া তাদের ভাবমর্যাদা বারাতে শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে বলে দাবি করেন জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের এ রাষ্ট্রদূত। তিনি আরও বলেন, তাদের রাজস্বের উৎসগুলো মৃতপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। পিয়ংচ্যাংয়ে চিয়ার লিডার পাঠানোর কারণ তাদের হতাশা, জাতীয় গর্ব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়া বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে মিলে মার্কিনিরা তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ কারণেই কোরীয় অঞ্চলে একের পর এক যৌথ মহড়া চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। মহড়া বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে পর্যায়ক্রমে এমন পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পথে হাঁটারও হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়ছে, তার বেশ কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম বলেও ধারণা অনেক পর্যবেক্ষকের। -রয়টার্স

ফেসবুকে লাইক দিন