পরকালে প্রিয়নবী (সাঃ) এর শাফায়াত লাভে কি করণীয়ঃ জেনে নিন

পরকালে আল্লাহ তা’য়ালার রহমত এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ ব্যতিত মুক্তি ও সফলতার কোনো সুযোগ নেই।

আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা’য়ালা সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল করে দুনিয়াতে প্রেরন করেছেন। তাই পরকালে আল্লাহ তা’য়ালার রহমত ও প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত লাভের জন্য ইবাদত বন্দেগিতে ইখলাস ও মনোযোগী হওয়া আবশ্যক জরুরি।

ইবাদত-বন্দেগিতে ইখলাস অবলম্বনের ক্ষেত্রে যে বান্দা যতবেশি অগ্রগামী হবে কেয়ামতের দিন সে বান্দা ততবেশি শাফায়াত লাভের জন্য উপযুক্ত হবে। তাই আমলে ইখলাস সম্পর্কে আমাদের জানা জরুরি।

ইখলাসঃ কোনো কিছু করার ইচ্ছাকে ইসলামে ‘নিয়ত’ বলা হয় । নিয়ত ভালো মন্দ দুটোই হতে পারে । কিন্তু যখন কোন বান্দা শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তাআলাকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত করে সেটাকে “ইখলাস” বলা হয় । আর কোন বান্দা লোক দেখানো বা অন্য কোনো উদ্দশ্যে ইবাদত করলে সেটাকে “রিয়া” বলা হয় ।

যে কোনো ইবাদত একমাত্র আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি বা উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করলে সেটা আল্লাহপাক গ্রহন করবেন না । এজন্য পূর্বেকার আল্লাহওলা বুজূর্গগন কোনো আমল করার পূর্বে ভালোভাবে চিন্তা করতেন তাদের নিয়ত বা ইখলাস বিশুদ্ধ আছে কিনা ।

এক যায়গায় আল্লামা সাজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ মানুষের ইবাদত ও আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে ৫টি কাজ আবশ্যক।
>আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভ করে আমল করা;
>হক বা সত্য সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে আমল করা;
>ইখলাস বা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমল করা;
>রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আমল করা;
>হালাল খাদ্য গ্রহণ করে আমল করা। (আল-জামে লি-আহকামিল কুরআন : কুরতুবী)

প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন-

‘কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত দ্বারা সবচেয়ে ভাগ্যবান হবে ওই ব্যক্তি যে ইখলাসের সঙ্গে (একনিষ্ঠভাবে) বলেছে, ‘আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।’ (বুখারি)

আলোচ্য হাদিসে এ বিষয় সুস্পষ্ট যে পরকালে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত লাভ করতে হলে অবশ্যই তাকে আল্লাহ তা’য়ালার ওপর একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। শিরকমুক্ত ঈমান লাভ করতে হবে। তাওহিদ, রেসালাত ও আখেরাতের প্রতি ইখলাসপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। তবেই প্রিয়নবির শাফায়াত সম্ভব হবে।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকেকে শিরকমুক্ত ঈমান লাভ করে সকল ইবাদতে একনিষ্ঠ ইখলাস অর্জনের মাধ্যমে পরকালে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাফায়াত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।।

ফেসবুকে লাইক দিন