পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে হয়রানি: ওসিসহ ৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা !

ইয়াবা বিক্রির দায়ে মেহেদি হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলার পর, তার মা মেহেরুন্নিসা পাল্টা মামলা করেছেন সাতজন পুলিশের বিরুদ্ধে। যুবকের মায়ের অভিযোগ, পুলিশ টাকা চেয়ে না পেয়ে তার ছেলের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ফাঁসানো হয়েছে । গত ২৫শে এপ্রিল চট্টগ্রামের পাহাড়তলি থানায় উক্ত ঘটনা ঘটে।

২৫শে এপ্রিল রাতের এই ঘটনার পর, ৩০শে এপ্রিল সোমবার পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে পাল্টা মামলা করেন মেহেরুন্নিসা । চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরোকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মেহেরুন্নিসার অভিযোগ, ২৫শে এপ্রিল রাতে তার ছেলে মেহেদি হাসানকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশ তিন লক্ষ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে পকেটে ৪০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়ার অভিযোগে তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।

ইয়াবা নামক নেশার বড়ি পকেটে ঢুকিয়ে চাপ দিয়ে পুলিশের টাকা আদায়ের অভিযোগের খবর ইদানীং হর-হামেশা চোখে পড়ে বাংলাদেশে । কিন্তু অভিযোগ নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনা বিরল।

কিন্তু চট্টগ্রামের ওই নারী পাহাড়তলি থানার অফিসার-ইন-চার্জ সহ সাতজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা ঢুকিয়ে হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছেন।

কিন্তু পাহাড়তলি থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মেহেদি হাসান এবং তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার পুরনো মামলা ছিল, তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও ছিল।

মেহেরুন্নিসার আইনজীবী বাবুল দাস বলেন, ২৫শে এপ্রিল রাতে টিভিতে আইপিএল ম্যাচ দেখার পর মেহেদি হাসান এবং তার দুই বন্ধু রাস্তায় বেরিয়েছিলেন।

সে সময় পাহাড়তলি থানার পাঁচ পুলিশ সদস্য তাদেরকে আটক করে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে মেহেদি হাসানের মা মেহেরুন্নিসা দৌড়ে গেলে পুলিশ জানায় তার ছেলের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার মামলা রয়েছে।

আইনজীবী বাবুল দাস বলেন, তখন তার মক্কেল প্রমাণ চাইলে, পুলিশ তাকে তিন লাখ টাকা নিয়ে থানায় দেখা করতে বলে। অন্যথায় তাকে নানা মামলায় জড়িয়ে ফেলার হুমকি দেয়া হয়।

পরের দিন মেহেদি হাসানের পকেটে ৪০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়ার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ তাকে আদালতে চালান করে দেয়। সাথে আটক তার বন্ধুর পকেটে ১২টি ইয়াবা বড়ি পাওয়ার পাওয়ার অভিযোগে ভিন্ন একটি মামলা করে পুলিশ।

চারদিন পর মেহেদি হাসানের মা সোমবার পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির পাল্টা মামলা করেন।

*বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশের প্রধান রুট কক্সবাজার-চট্টগ্রাম। মিয়ানমার থেকে এই পথেই ইয়াবা ঢুকে বাংলাদেশের অন্যত্র নেয়া হয়।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এর স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, এই চোরাচালানের সাথে স্থানীয় রাজনীতিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। সেইসাথে, পুলিশের বিরুদ্ধে ইয়াবা পকেটে ঢুকিয়ে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করার বহু অভিযোগও নিয়মিত আসছে ।

উল্লেখ্য গত বছর অক্টোবরে টেকনাফে ব্যবসায়ীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ১৭ লাখ টাকা সহ গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করার পর তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল।

তারও আগে জুন মাসের দিকে টেকনাফের একটি গ্রামের আওয়ামী লীগের একজন তৃণমূল কর্মী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেন। এই ধরণের ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে তাকে জমি বিক্রি করতে হয়েছিল। ঐ অভিযোগের তদন্তের পর, টেকনাফ থেকে আটজন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছিল। সূত্রঃ বিবিসি

আরও পরুনঃ  ‘বর্তমানে দেশে কোনও লোডশেডিং নেই’: বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস

ফেসবুকে লাইক দিন