নৌকায় ভোট না দেয়ায় খুন-ধর্ষণ হতে হচ্ছে; ন্যূনতম লজ্জা থাকলে এভাবে সরকার গঠন করা যায় না: বামজোট

ইমান২৪.কম: ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করবে গণতান্ত্রিক বামজোট বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘একটি ধর্ষণের ঘটনা থেকেই আওয়ামী লীগের চরিত্র পরিষ্কার হয়ে গেছে। নৌকায় ভোট না দেয়ায় খুন-ধর্ষণ হতে হচ্ছে।’

বুধবার সংবাদ মাধ্যমকে সেলিম বলেন, ‘পুনরায় সুষ্ঠু ভোট এবং এ সরকারের পতনের দাবিতে আমরা আগামীকাল প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। প্রেস ক্লাবের সামনে কালোকাপড় বেঁধে আমরা মানববন্ধন করব। মানববন্ধনে সবাইকে অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচকে ‘ভুয়া নির্বাচন’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনে চরমভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ হয়েছে। ন্যূনতম লজ্জা থাকলে এভাবে সরকার গঠন করা যায় না।’

জীবনে প্রথম নির্বাচনে হারলেন অলি আহমদ:

রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে হার দেখলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। এর আগে তিনি নিজ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়বার অংশ নিয়ে প্রতিবারই সম্মানজনক ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

এমনকি পাশের চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া- লোহাগাড়া আসনে প্রার্থী হয়েও জয়ী হন তিনি।
চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা কোনো নির্বাচন নয়। এটা প্রহসনের নির্বাচন।

সরকার, সিইসি ও প্রশাসনের লোকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে ভোট নিয়ে নিয়েছে। নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছে তারা। এমন জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনও দেখিনি। এতে আমরা বিস্মিত ও হতভম্ব।

চট্টগ্রাম-১০ ডবলমুরিং-পাহাড়তলী আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জীবনে এত নির্বাচন করেছি। কখনও জামানত হারানোর মতো হয়নি। এই সরকার পরিকল্পিতভাবে শুধু ভোট ডাকাতি করেছে তাই নয়; জামানত কেড়ে নেয়ার মতো একটি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করেছে। জামানত কেড়ে নিয়েও সরকার মোটা অঙ্কের অর্থ ছিনতাই করেছে। যা অবশ্যই বিস্ময়ের ব্যাপার।

চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এলডিপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি নুরুল আলম বলেন, এ আসনে বিগত সবক’টি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেও আমি কখনো জামানত হারাইনি। এই নির্বাচনে আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ৬,০৬৫। যা অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর। এ নির্বাচন আমরা মানি না।

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৫৬,১৭৯ ভোট পেয়ে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। কিন্তু এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ৩,৯৯১ ভোট। যা সত্যিই অবাক করার মতো।

চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক সভা করলেও রাউজানে বিএনপির ৪-৫ হাজার নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটে। সেখানে আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ২৩০৭। অথচ এই রাউজান আসন বিএনপির ভোট ব্যাংক।

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীরবিক্রম বলেন, এটা নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এ ধরনের জালিয়াতি আর কখনো দেখিনি। আওয়ামী লীগের লোকজন রাতে ভোট নিয়ে বাক্সে ভরেছে। দিনের বেলায় আমার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কারচুপি করেছে।

আরও পড়ুন:  ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে, আমরা তৃপ্ত-সন্তুষ্ট : সিইসি

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জাতীয় পার্টি সন্তুষ্ট নয় : রাঙ্গা

ইসি মিথ্যা কথা বলেছে, ভূয়া ভোট করেছে : হিরো আলম

নির্বাচনে সহিংস ঘটনাগুলোর পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

দাবি এক হলে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বসতেই পারি: চরমোনাই পীর

নতুন পোশাক না থাকায় নতুন বই দিল না স্কুল : কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরা শিশুদের

ফেসবুকে লাইক দিন