নিজের ইচ্ছামতো নেগেটিভ-পজেটিভ রিপোর্ট দিতেন সাবরিনা, রিমান্ড চাইবে পুলিশ

ইমান২৪.কম: নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার সাবরিনাকে রিমান্ডে আনার জন্য আবেদন করবে পুলিশ। দিনের বেলা বাড়িতে বাড়িতে কিট কালেকশন করে পাঁচ হাজার টাকা এবং বিদেশি হলে একশ ডলার নিতেন।

নমুনা সংগ্রহ করার পরে সেগুলো তিনি রাস্তায় ফেলে রেখে যেতেন। পরে নিজেদের ইচ্ছামতো নেগেটিভ অথবা পজেটিভ ফলাফল দিতেন। রবিবার (১২ জুলাই) সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে রিমান্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, তদন্তে জেকেজির প্রতারণার সঙ্গে ডা. সাবরিনা আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

তাই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বলেন, হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। নেগেটিভকে পজিটিভ করেছেন আবার পজিটিভকে নেগেটিভ করেছেন।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। ডিসি বলেন, আমরা বারবার জিজ্ঞেস করেছি জেকেজির সঙ্গে তার সম্পর্ক কি? বারবারই তিনি যে জেকেজির চেয়ারম্যান সে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তিনি একজন সরকারি চিকিৎসক হয়ে তিতুমীর কলেজে করোনা টেস্ট ক্যাম্পে বা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জেকেজি সম্পর্কে অনেক কথায় বলেছেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি এগুলো বলতে পারেন না। আর বললেও কোনোভাবেই তিনি দায় এড়াতে পারেন না। আমরা মনে করি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো অনেক কিছু পাওয়া যাবে। তাই সোমবার তার রিমান্ড চাওয়া হবে।

একজন সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, সে কখনোই চেয়ারম্যান থাকতে পারেন না। আবার মুখপাত্রও হতে পারেন না। তিনি তিতুমীর কলেজে মুখপাত্র হয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা তিনি দিতে পারেন না।

ফেসবুকে লাইক দিন