নিউজিল্যান্ডে নারী পুলিশের পোশাকে যুক্ত হলো হিজাব

ইমান২৪.কম: মুসলিম নারীদেরকে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পুলিশের পোশাকে হিজাব অন্তর্ভুক্ত করেছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ। বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশে নব নিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জিনা আলি হবেন প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরবেন। নিউজিল্যান্ড পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দেশটির বহুজাতি গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ফলে আরও বেশি মুসলমান নারী পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী হবে বলে তারা আশা করছে। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের সেকেন্ডারি স্কুল পরিদর্শন করে পুলিশ কর্মকর্তারা সুপারিশ করলে ২০১৮ সাল থেকেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব সংযুক্ত করার ব্যাপারে কাজ শুরু হয়।

এদিকে, কনস্টেবল জিনা আলী নিজের পোশাকের অংশ হিসাবে প্রথম হিজাব ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন। তারপর এই পোশাক চালু করার কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ড পুলিশ। প্রথম পুলিশ সদস্য হিসেবে হিজাব পরতে যাওয়া জিনা আলীর জন্ম ফিজিতে।

ছেলেবেলায় তিনি নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার পর তিনি পুলিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জিনা আলী নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, ‘আমি উপলব্ধি করতে শুরু করলাম, মানুষকে সহায়তা করার জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও বেশি মুসলমান নারীদের অংশগ্রহণ করা উচিত।

নিউজিল্যান্ড পুলিশ বাহিনীতে আমার পোশাকের অংশ হিসাবে হিজাব তুলে ধরতে পারায় আমার খুব ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, এটা দেখে এখন আরও বেশি মুসলমান নারী পুলিশে যোগ দিতে চাইবেন।’

এর আগে ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তাদের পুলিশ সদস্যরা চাইলে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরতে পারবে। ২০১৬ সালে একই রকম সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ডের পুলিশ। অন্যদিকে, ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার মাহা শুক্কুর তার পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরেন।

ফেসবুকে লাইক দিন