নারায়ণগঞ্জে মানুষের মাথার খুলিসহ গ্রেফতার ৪

ইমান২৪.কম: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মাথার খুলি ও দেহের কঙ্কালসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মামলা করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার উচিৎপুরা বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (২৬), ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার বাউসা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে আব্দুল জলিল (২৫),

জামালপুরের সিহাটা বাজার বাকাইল এলাকার আনছার আলীর ছেলে সুমন মিয়া (২০) ও মৌলবীবাজারের কুলাউড়া থানার দক্ষিণ ইসলামাবাদের নাছির দর্জির ছেলে রাহেল (২০)।

আড়াইহাজার থানা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার উচিৎপুরা থেকে আড়াইহাজার বাজারে যাওয়ার পথে কতিপয় লোকের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাদের গতিরোধ করলে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে সোহেল মিয়ার হাতে থাকা একটি ব্যাগে থাকা চারটি মৃ ত মানুষের কঙ্কালের মাথার খুলি ও কঙ্কালের বিভিন্ন অঙ্গের ১৫০টি হাড়ি এবং আব্দুল জলিলের কাছে থাকা একটি ব্যাগে থাকা মৃ ত মানুষের কঙ্কালের ২৯৬টি হাড়সহ মোট ৪৫০টি হাড় উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা বিভিন্ন এলাকার কবরস্থান থেকে মৃ ত মানুষের মাথার খুলি ও মৃ ত মানুষের হাড় চুরি করে রাহেল মিয়ার কাছে বিক্রি করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, সেলিম মিয়ার কাছে প্রতি মৃ ত মানুষের মাথার খুলি ও হাড় ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করে।

রাহেল মিয়া ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালের এক ডাক্তারের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তাদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন>> মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় নড়াইলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ। উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছিল।

কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের গাড়ি না আসায় ফেরি ছাড়তে তিন ঘণ্টা বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় ঘাটে ফেরি ছাড়ার অপেক্ষায় অ্যাম্বুলেন্সে মৃ ত্যু হয় স্কুলছাত্র তিতাসের।

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১নং ফেরিঘাটে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে অনেক অনুরোধের পরও কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরি ছাড়া হয়নি।

এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও প্রতিকার মেলেনি। এদিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরি কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে অসুস্থ স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃ ত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকালে বিআইডব্লিউটিএর সচিব প্রণয় কান্তি বিশ্বাস কাঁঠালবাড়ি ঘাট ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়ার কাছে মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়েছেন।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে সচিবের জন্য অপেক্ষমাণ ভিআইপি ফেরি কুমিল্লায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে উঠতে না দেয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান খোঁজখবর নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া।

আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘাটে দায়িত্বে ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন।

ওই দিন বিকেলে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক আমাকে মৌখিকভাবে ভিআইপি (অতিরিক্ত সচিব) পারাপারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে ওই অতিরিক্ত সচিবের নাম আমার জানা নেই।বৃহস্পতিবার রাতে ফেরিঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমি তখন অন্য ঘাটে ছিলাম।

খবর পেয়ে ওই অতিরিক্ত সচিবকে ফেরিতে উঠানোর জন্য ঘাটে আসি। রাত ১০টার দিকে সাংবাদিক পরিচয়ে এক ব্যক্তি রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে উঠানোর অনুরোধ করেন।

সচিবের গাড়ির সঙ্গে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ১১টার দিকে ফেরিতে উঠিয়ে দেই। পরে কি হয়েছে তা আমি জানি না।’

ফেসবুকে লাইক দিন