নরেন্দ্র মোদির ইতিহাসের জ্ঞান কম আছে: কংগ্রেস নেতার মন্তব্য

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে তার ‘ইতিহাস জ্ঞান কম’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কংগ্রেস মুসলিম পুরুষদের দল কী না তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়েছে।

আজ (রোববার) কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘কোনো দলকে মুসলিম দল বলা প্রধানমন্ত্রীর মতো পদে থাকা মানুষের জন্য শোভা পায় না। তার ইতিহাস জ্ঞান কম, তিনি নিজেই তার ইতিহাস লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রী গোটা ভারতের হয়, কেবল বিজেপি’র জন্য হন না। তার প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের অনেকেই জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ওনার মনে রাখা উচিত কংগ্রেসে জওহরলাল নেহরু, সরদার প্যাটেল, লালা লাজপত রায় এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো নেতারা সভাপতি হয়েছেন। এটা বরং ভালো হবে যদি কংগ্রেস সভাপতিদের তালিকা তার নিজ দফতরে রেখে দিন। হতে পারে এরফলে তার ভুল বিবৃতি দেয়ার অভ্যাস দূর হবে।’

আনন্দ শর্মা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি কেবল ইতিহাসকেই অপমান করেননি। বরং ভারতের সাফল্যকেও অবজ্ঞা করা হয়েছে। তার এ ধরণের অসুস্থ মানসিকতা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছেন তা ইতিহাস ও তথ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভুল।’

গতকাল (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের সফরে উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে এক সমাবেশে বলেন, ‘কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, তার দল মুসলিমদের দল। যা নিয়ে গত দু’দিন ধরে বিতর্ক চলছে। কিন্তু আমি এই ঘটনায় বিস্মিত নই। মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, এদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপরে প্রথম অধিকার মুসলিমদের। আমি কংগ্রেসের কাছে জানতে চাই, তাদের দলটি কি শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষদের জন্যই?’

আজ কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা তার ওই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মালদহের কালিয়াচক কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. নাজিবর রহমান আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভারতবর্ষ হল, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে প্রধানমন্ত্রীর যে পদমর্যাদা আছে, সেদিকে লক্ষ্য করে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এবং ভারতে যাতে মেরুকরণ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রী সেই দিকটা লক্ষ্য রাখতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে যে দল যে কাজ করে এসেছে ভারতে, সেই ইতিহাসকে কারো অবমাননা করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তা কোনোক্রমেই নয়।’

‘এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভেবে দেখা দরকার যাতে আগামীদিনে ভারতের সার্বিক উন্নতির পক্ষে তার মতামত থাকে এবং এ ধরণের ইতিহাস বহির্ভূত বক্তব্য যদি তিনি না রাখেন তাহলে ভারতের জন্য ভালো হবে’ বলেও ড. নাজিবর রহমান মন্তব্য করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন