নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বইয়ে বিবর্তনের নামে মিথ্যাচার…

২০১৮ সালের নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বইয়ে ‘জৈব বিবর্তন তত্ত্ব’ অধ্যায়ে বিজ্ঞানের অপব্যাখ্যা ও হাস্যকর কল্পকাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে।

মিথ্যাচার ১: প্রথমে লেখক বিবর্তনের সংজ্ঞা দিয়েছেন, ‘জীব জগতের বিভিন্ন জীবের ভিতর এক শ্রেণীর জীব থেকে আরেক শ্রেণীর জীব উন্নত এবং সেই জীবগুলো তাদের পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তি লাভ করে বিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমাগত পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে’। এখানে লেখন বিবর্তনের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা মূলত ‘ম্যাক্রো-ইভোল্যুশন’ এর সংজ্ঞা। পরক্ষনেই তিনি আধুনিক একটি সংজ্ঞা টেনেছেন যেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক বা কাছাকাছি প্রজাতির এলিল ফ্রেকুয়েন্সির পরিবর্তন’। স্পষ্টই এই সংজ্ঞাটি ‘মাইক্রো-ইভোল্যুশন’ এর সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। মাক্রো-ইভোল্যুশন, যার কোনো অস্তিত্ত্ব নাই, এর ফলে ফেনোটিপিক্যাল বা লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটে। আর মাইক্রো-ইভোল্যুশন এর ক্ষেত্রে জেনেটিক বা এলিলিক পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু যার প্রভাব ফেনটিপিক্যাল কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। >লেখক বিবর্তনের ম্যাক্রো-মাইক্রো লেভেলের বিষয়টি সুচতুরভাবে এড়িয়ে গেছে অথচ বিবর্তনের আধুনিক যে সংজ্ঞাটি তিনি দিয়েছেন সেটা স্পষ্টই ‘মাইক্রো-ইভোল্যুশন’ এর সংজ্ঞা ছিল!!!

মিথ্যাচার ২: লেখক বলেছে আদি পৃথিবীতে ‘কিন্তু অক্সিজেন গ্যাস ছিলোনা’। অবাক হলাম এমন ডাহা মিথ্যা তথ্য কিভাবে ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পন্ন লেখক দিতে পারে? সমস্ত বিজ্ঞানীরা একমত আদি পৃথিবীতে ন্যূনতম ১% অক্সিজেন বিদ্যমান ছিল। শুধু তাই নয়, একদল জিওলোজিস্টস মনে করে, তখন বর্তমান পৃথিবীর ন্যূনতম ৫০% ভাগ অক্সিজেন ছিল। এরপরে লেখক গ্রিক মিথলজির ন্যায় গল্প বলেছেন, বজ্রপাত আর অতিবেগুনি রশ্মির ফলে নাকি অ্যামিনো অ্যাসিড আর নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরী হয়!!! তারপরে প্রোটিন, তারপরে প্রাণ!!! পরীক্ষাগারে নাকি এটা প্রমাণিতও হয়েছে। >বুঝতে পারছি Miller-Urey experiment কে এখানে এভিডেন্স হিসাবে কনসিডার করা হয়েছে অথচ এই এক্সপেরিমেন্ট এর সীমাবদ্ধতা এতটাই যা দিয়ে আলাদা একটা প্রবন্ধ লিখা যায়।

মিথ্যাচার ৩: ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার করেছেন শেষে এসে। লেখক লিখেছেন, ‘ বিবর্তন শুধু প্রকৃতির কোলেই ঘটে না। গবেষণাগারে পরীক্ষামূলকভাবে বিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এটিও বিবর্তনের বাস্তবতার প্রমান। জীব জগৎ সম্পর্কে আমরা যতই জানছি, ততই বিবর্তনকে অস্বীকার করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’ >মাইক্রো-এভোল্যুশন কেউ অস্বীকার করে না, কারণ এর পক্ষে এক্সপেরিমেন্টাল এভিডেন্স আছে, কিন্তু ম্যাক্রোর ক্ষেত্রে কোনো প্রমান নাই, যা আছে তা শুধুই গ্রিক মিথোলজিকে হার মানানো কল্পকানিহীনি। এই লেখককে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলাম,পারলে সে বিবর্তনের (ম্যাক্রো-ইভোল্যুশন) পক্ষে কোনো এক্সপেরিমেন্টাল এভিডেন্স হাজির করুক। লেখন মহা অন্যায় করেছে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে।

উপরন্ত বর্তমান সময়ের সেরা এক্সপেরিমেন্টাল এভোলুশনিস্ট, নাস্তিক বিজ্ঞানী Prof. John S Torday, UCLA, বলেছেন, ”’There is no experimental evidence for evolution in the strict sense, empirically showing that “A led to B led to C” either ontogenetically or phylogenetically. There are experiments that demonstrate that evolution is feasible, and those that are consistent with evolution, like the classic observation regarding moths in England changing their coloration, but not how that pigmentation evolved mechanistically. BTW, I am not a Creationist/Intelligent Designer. I am a working scientist with a deep concern for the lack of such evidence, which is clearly the reason for the debate about religious belief and evolution theory. Currently both are beliefs until we are able to provide experimental evidence for evolution.” একটি লক্ষণীয় বিষয়, আমি লেখকের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে খোজ নিলাম উনি পেশায় একজন চিকিৎসক যার বায়োলজি বিষয়ে মৌলিক কোনো একাডেমিক পড়াশোনা বা গবেষণা নাই। এমন একজন লোককে দিয়ে সরকারি পর্যায়ে বায়োলজি বই লেখানো কি আমাদের দৈন্য দশা আরো ফুটিয়ে তুলছে না? পরিশেষে, কোমল মতি স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমস্ত অজ্ঞ লেখকদের লেখনী বাদ দিয়ে যারা সত্যিকারের বায়োলজি চর্চা করে তাদের লিখিত বই পাঠ্য করার দাবি করছি, নিতান্তই তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই বইটির মেজর কারেকশন দাবি করছি। –Saifur Rahman

ফেসবুকে লাইক দিন