ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহার না করায় কলেজছাত্রীকে মারধর

ইমান২৪.কম: ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহার না করায় এবার সেই কলেজছাত্রীকে মারধর করা হয়েছে। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ওই ছাত্রী বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল বারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন।

একটি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একই এলাকার জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে মুঠোফোনে চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরে মোরশেদুল ২০১৭ সালে বগুড়া পর্যটন মোটেলে ডেকে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তিনি বাদী হয়ে ওই বছরের ৩১ আগস্ট শাজাহানপুর থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

এ ঘটনায় ‘ধর্ষকের’ গ্রেপ্তারের দাবিতে বগুড়া শহরের সাতমাথায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনসহ নানা সংগঠন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এ প্রেক্ষাপটে চেয়ারম্যান তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে তাঁদের বিয়ে হয়।

কিন্তু বিয়ের মাস তিনেক পর মোরশেদুল বারী মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে ব্যর্থ হয়ে তাঁকে নির্যাতন শুরু করেন। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হলে বগুড়া নোটারি পাবলিকে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী ঘরসংসার করছি মর্মে আপসনামায় জোর করে স্বাক্ষর নেন।

সেই আপসনামা মূলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওই বছরের ২৮ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর মোরশেদুল বারী তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ছাত্রী বলেন, তিনি চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে আদালত তা আমলে নিয়ে পুনঃ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ ৪ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান মোরশেদুল গত শুক্রবার শহরের সাতমাথায় প্রধান ডাকঘরের সামনে থেকে দিনদুপুরে তাঁকে জোরপূর্বক একটি আবাসিক হোটেলে তুলে নিয়ে যান।

তাঁকে প্রথমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখান। এতে রাজি না হলে তাঁকে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী বলেন, ‘ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁকে মারধর, নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও সঠিক নয়।’

আরও পড়ুন: কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে 

বাংলাদেশের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা : বিমানের ডানা বেয়ে নেমে

ফেসবুকে লাইক দিন