দীর্ঘ ৯ বছর পর ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল

ইমান২৪.কম: দীর্ঘ ৯ বছর অপেক্ষার পর রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলেন নেতাকর্মীরা। এর আগে ২০১০ সালে জানুয়ারি মাসে ছাত্রদল সর্বশেষ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের সাত দফা দাবিতে উপাচার্যের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপি পেশ করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে মৌন মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর, টিএসসি হয়ে শাহবাগ গিয়ে শেষ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মোহাম্মদ ফয়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদি হাসান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দীকিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

স্মারকলিপি পেশ শেষে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, আমরা উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি তিনি আমাদের দাবিগুলো আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে তিনি দাবিগুলোর ব্যাপারে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।

দাবি না মানা হলে ছাত্রদের কোন কর্মসূচি আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাজিব বলেন, আমাদের দাবিগুলো না মানার কোন কারণ নেই। কারণ তিনি আমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন। আমরা দেখতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিবেনা, এটা আমরা বিশ্বাস করি না।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, আমরা যে সহাবস্থানের দাবি জানিয়েছি, তা ডাকসু কে কেন্দ্র করে নয়, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের মধ্যে স্থায়ী রাজনৈতিক সহাবস্থান চাই।

দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে না আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে সহাবস্থানের দাবি জানাইনি, আমি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর কাছে মধুতে চা খেতে চেয়েছি। তিনি আমাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু অনান্য নেতৃবৃন্দ আন্তরিকতা দেখায়নি বলে আমরা মধুতে অবস্থান করিনি।

এদিন উপাচার্যকে দেয়া স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের যে সাত দফা ছিলো-

১. নূন্যতম ৩ মাস সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পরিবেশ নিশ্চিত করার পর ডাকসুর তফসিল ঘোষনা করতে হবে।

২. অংশগ্রহণমূলক ও ভীতিহীন পরিবেশে ডাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে হলের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

৩. সকল পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০ বছর বয়সসীমার পরিবর্তে ভর্তি সেশন নির্ধারণ করতে হবে।

৪. ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর ছাত্র সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের প্রচারণায় অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করা যাবে না এবং হামলা ,মামলা ও গ্রেফতার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

৫. শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ডাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও নেতাদের উপর হওয়া হামলার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।

৬. ডাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিগুলোকে পূনর্গঠন করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভূ্ক্ত করতে হবে।

৭. ডাকসু গঠনতন্ত্রের ৫ এর (এ) অগণতান্ত্রিক ধারাটি সংশোধন করে সভাপতি ও ছাত্র সংসদের যৌথ সিদ্ধান্তের বিষয় সংযোজন করতে হবে এবং ৮ এর (এম) ধারাটি সংশোধন করতে হবে।

‘উপাচার্যের পরামর্শে মধুর ক্যান্টিনে যায়নি ছাত্রদল’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি দেওয়া শেষে তাদের মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মধুর ক্যান্টিনে তারা যাননি।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেহেতু আমরা অনেক দিন ধরে ক্যাম্পাসে নেই, তাই স্যার আমাদের এসব প্রক্রিয়া একটু স্লো (ধীরে) করার পরামর্শ দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:  কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ঐক্যফ্রন্ট

এখন বিজ্ঞাপন দিয়েও কাজের মানুষ পাওয়া যায় না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

গত এক মাসে ৫২ টি ধর্ষণ, ২২টি গণধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণের পর হত্যা

দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের ছেড়ে শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত দুদক: হাইকোর্ট

ইজতেমা মাঠের কাজ শুরু, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ময়দানে শরিক হওয়ার আহ্বান মুরব্বিদের

এখন থেকেপুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যাবে সরাসরি, খোলা হয়েছে কমপ্লেইন সেল

ফেসবুকে লাইক দিন