দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

দারুল উলুম দেওবন্দ ও কওমি মাদ্রাসাঃ

ইংরেজ শাষনামলে শিল্প বিপ্লবোত্তর সময়ে যখন তাগুতি শক্তি কথিত উন্নয়ন, প্রগতি ও প্রযুক্তির মোহময়তার আবরণে সাম্রাজ্যবাদী দুরাকাঙ্ক্ষা পূরণে মত্ত হয়ে ওঠে, তখন তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধের জন্য এগিয়ে আসেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভি (রহ.)। তিনি কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামের আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বিধিবিধান বিশ্লেষণ করে পেশ করেন ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের সার্বিক রূপরেখা। পরবর্তী সময় বস্তুবাদের ফেতনা ভয়াবহ আকার ধারণ করলে পূর্বপুরুষদের যোগ্য উত্তরসূরি হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানুতভি (রহ.) নতুন রূপে, ভিন্ন আঙ্গিকে পথচলা শুরু করেন। তিনি মূলনীতি অনুসরণ করে শাখা-প্রশাখায় সংযোজন করে একটি সমন্বিত শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের নাম দেওবন্দ মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওবন্দের মহান মনীষীরা লর্ড মেকলের শিক্ষানীতিকে অসার প্রমাণ করতে চেয়েছেন।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

১৮৫৭ সালে ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লব সংঘটিত হয়।  ৩৪ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম ঐক্যবদ্ধভাবে ব্রিটিশদের প্রতিরোধের ডাক দেন। ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ভারতের স্বাধীনতাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন করে তাদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করেছেন কওমি মাদ্রাসার আলেমরা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বালাকোটের ট্র্যাজেডির আগে সাড়ে ৫৭ হাজার (৫৭ হাজার ৫০০) আলেম শাহাদাতবরণ করেছেন। (সূত্র : গোলাম আহমাদ মোর্তজা, ইতিহাসের ইতিহাস, মুন্শী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ রিসার্চ একাডেমি, চতুর্থ সংস্করণ, জুলাই-২০০৯)। আর বালাকোটের ট্র্যাজেডির পর আজাদি আন্দোলনের লড়াকু ১৪ হাজার আলেমকে ফাঁসি দেয় জালিম ইংরেজরা। (সূত্র : জিয়াউর রহমান ফারুকির ভাষণ, যাঁদের ত্যাগে এ দেশ পেলাম)

এটা ছিল এমন এক পরিস্থিতি, যার সঙ্গে তুলনা করা চলে হজরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধের সঙ্গে, যেখানে ৭০ জন কোরআনে হাফেজ শহীদ হলে অবশিষ্ট সাহাবার মধ্যে কোরআন সংকলন ও সংরক্ষণের জোর তাগিদ দেখা দেয়।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

ঠিক তেমনি বিপুলসংখ্যক আলেম শহীদ হওয়ার ফলে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াদির হেফাজত করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের একটি রক্ষণশীল মানসিকতা থেকে, পশ্চিমা শিক্ষা ও কালচারের আগ্রাসন থেকে মুসলিমদের বাঁচাতে কয়েকজন আলেমের উদ্যোগে ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেওবন্দ ছিল একটি প্রতিবাদ, একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন। ১৮৬৬ সালের ৩০ মে তদানীন্তন অখণ্ড ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে হজরত কাসেম নানতুভি (রহ.)-এর নেতৃত্বে ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এটিই সর্বপ্রথম কওমি মাদ্রাসা। এর ছয় মাস পর দারুল উলুমের আদর্শ ও পৃষ্ঠপোষকতায় সাহারানপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুজাহেরুল উলুম মাদ্রাসা’।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

তারপর দেওবন্দের কারিকুলামে বিভিন্ন দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় ১৯০১ সালে বাংলাদেশের প্রথম কওমি মাদ্রাসা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৩৭ সালে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এ দেশে প্রায় ৪৪৩টি কওমি মাদ্রাসা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫১টি ছিল দাওরায়ে হাদিস মাদ্রাসা। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০১৫ সালের সালের হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে ১৩ হাজার ৯০২টি কওমি মাদ্রাসা আছে। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। (প্রথম আলো : ২৯-০৯-২০১৬)

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতে, দেশে ২৬ থেকে ২৮ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। (দৈনিক কালের কণ্ঠ : ৮-৪-১৫)

অধ্যাপক আবুল বারকাতের মতে, দেশে মোট ৫৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। (সূত্র : অধ্যাপক আবুল বারকাত, মৌলবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি, পৃ. ৯)

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ছাড়াও কওমি কারিকুলামে মসজিদ, মক্তব ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসাকেন্দ্রিক আরো লাখো প্রতিষ্ঠানে কওমি ধারার শিক্ষা দেওয়া হয়। দেশের প্রতিটি জনপদে, শহর-বন্দরে, গ্রামগঞ্জে হাজারো মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপন করে মুসলমানদের জন্য ইমানি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেছে কওমি মাদ্রাসা। এসব মসজিদ-মাদ্রাসায় এমন লাখো পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সরকারি শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা যাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অর্থে রাষ্ট্রের অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ করছে কওমি মাদ্রাসা।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

কওমি মাদ্রাসা যত প্রত্যন্ত অঞ্চলেই অবস্থিত হোক না কেন, যত জীর্ণ, শীর্ণ ও সাদাসিধে হোক না কেন, মুসলিম সমাজে এসব মাদ্রাসার প্রভাব দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এসব মাদ্রাসার বদৌলতে এখনো পৃথিবীতে কালেমার ধ্বনি শোনা যায়। ইমানের ডাকে অদৃশ্যের আহ্বানে মানুষ সাড়া দেয়। এ মাদ্রাসাগুলোর কারণেই এখনো পৃথিবীতে আল্লাহর আওয়াজ সমুন্নত আছে। দ্বীনকে তার প্রকৃত রূপ, অবয়ব ও কাঠামোতে সংরক্ষিত রাখার দায়িত্বও কওমি মাদ্রাসা পালন করে আসছে।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

এই সেই #দারুল_উলুম_দেওবন্দ যাকে উম্মুল মাদারিস অর্থাৎ সকল ক‌ওমি মাদরাসার মা বলা হয়।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ, যার আয়তনের নকশা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিজ ইশারায় নিজ লাঠি মুবারক দারা কুদরতী ভাবে তার মুযেজা দিয়ে সপ্নযোগে একেঁছিলেন।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার বরকত, সারা দুনিয়ার মধ্যে ইসলাম কায়েম কে সতেজ ও বেগবান করছে।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ, যার বরকতে সারা দুনিয়ার আনাচে কানাচে দীন এর দাওয়াত ও তাবলীগ হচ্ছে।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার জোরালো আন্দোলনের কারনে হাজারো আলেমকে শহীদ করার পরও ঈমানের শক্তির কাছে টিকতে না পেরে বৃটিশরা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার মাধ্যমে
উপমহাদেশের ইসলাম পুনজাগরন হয়।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার ওলামা মাশায়েখ গণ, বিদাত বাতিল মতাদর্শের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে জাচ্ছেন।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার আদলে সারা বিশ্বে লক্ষাধিক ক‌ওমি মাদারিস এর শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ আলেম সারা দুনিয়াতে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় মানুষ দের কে আহবান করে যাচ্ছেন।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার ওলামা মাশায়েখ গণ কোন বাতিল শক্তির রক্ত চক্ষু কে ভয় পায়না।

দারুল উলুম দেওবন্দ ❤ হকের পক্ষে সবসময়

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার মাধ্যমে আমরা এখনো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুমধুর আযান শুনতে পাই।

💓এই সেই দারুল উলুম দেওবন্দ যার ওলামা মাশায়েখ গণের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায় বিদাতী ও শিরিকী বাতিল ফিরকার বিদাতিরা। এবং সকল বাতিল দের জন্য মহা আতংক।

ইয়া আল্লাহ!
তুমি কিয়ামত পর্যন্ত তোমার এই রহমত কে জারি
রেখো…আমিন

ফেসবুকে লাইক দিন