অস্ত্রের মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইশরাক

ইমান২৪.কম: বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সরকার জনগণকে বাদ দিয়ে তাদের ভিনদেশী মনিবদের সাথে নিয়ে আমাদেরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের কাছে ‘অবৈধ অস্ত্র’ আছে এমন অভিযোগ করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (২৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেনের দাবি, হেফাজতের রবিবারের হরতালে মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজনের গুলিতে মধুপুরের পীর সাহেব আহত হয়েছেন। মধুপুরের পীরসাহেবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে তুলে তিনি নেতাকর্মীদের বলেন, আমি আপনাদের শেষ কথা বলতে চাই আপনারা আগামীর জন্য প্রস্তুত হন।

এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। এই অস্ত্রের মোকাবেলা করে আমাদের আবারও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৩ বছরে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমরা আজ সুবর্ণজয়ন্তী অর্থাৎ স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দাঁড়িয়ে আছি। এই সুবর্ণজয়ন্তী সরকার পালন করল অথচ সারা বাংলাদেশের মানুষকে ঘরে ঢুকিয়ে কারফিউ দিয়ে, কিছু বিদেশিকে নিয়ে তারা আমাদের স্বাধীনতা পালন করল। লজ্জা লাগে যে আজ এভাবে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে আমাদের রাষ্ট্র বাধ্য হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মূল আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য আজকে এগুলো ঘটানো হচ্ছে কিনা সেটা আমাদের ভেবে দেখা দরকার। পৃথিবীর ইতিহাসে যুগযুগ ধরে রাজনীতিবিদেরা ধর্মকে ব্যবহার করে জাতিগত বিভেদ লাগিয়ে স্বার্থকে হাসিল করেছে। বাংলাদেশ একটি সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তার পিছে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা তার সঠিক তদন্ত করা দরকার।

ইশরাক হোসেন বলেন, সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকার মানুষকে ঘরে ঢুকিয়ে এক ধরণের কারফিউ দিয়ে কিছু বিদেশী প্রভুদের নিয়ে এসে আমাদেরই স্বাধীনতা পালন করা হলো। লজ্জা লাগে আজ এভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে হলো। অথচ দল মত,ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষের একসাথে হয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার কথা ছিল বলেও মন্তব্য করে তিনি। নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আসা নিয়ে ইসলামী দলগুলোর সাথে বেশ কয়েকদিন ধরেই সরকারের ঝামেলা চলছে উল্লেখ করে তিনি অভিাযোগ করেছে, গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে তা আড়াল করার জন্যই সরকার ধর্মকে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, এ দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিতে ধর্মকে ব্যবহারের চক্রান্তে মেতে ওঠেছে সরকার। স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উপলক্ষে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গোলাগুলির ঘটনায় সরাসরি আওয়ামীলীগ জড়িত বলে অভিযোগ করে এ বিএনপি নেতা বলেন, হেফাজতের হরতালে মুণ্সিগঞ্জের ৮০ বছর বয়স্ক বড় হুজুরকে সরাসরি আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে আহত করেছে।

এর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। এদের মোকাবেলা করে দেশে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ারও আহ্ববান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

ফেসবুকে লাইক দিন