তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ: ৪ মাসের অন্তঃস্বত্তা নারী খুন

টেকনাফ: ঘটনাটি ঘটেছে টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে। জানা যায়, ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের আলী হোসেন সড়ক মোড়ে ডি-ব্লকে এঘটনা ঘটে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ছুরিকাঘাতে চার মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা আনছার বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জন কে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকানের ব্যাবসা করে আসছেন মকবুল আহমদ নামে একজন। ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার হটাৎ তার দোকানের সামনে অস্থায়ী কবিরাজের দোকান দেয় সৈয়দ আহমদ নামে এক ব্যাক্তি। তাকে অস্থায়ী দোকান সরাতে বললে শুরু হয় কথা কাটাকাটি এক পর্যায় পরিস্থীতি খারাপের মধ্যে গেলেও আশে পাশের অন্যরা এসে পরিবেশ শান্ত করে।

ফের বিকেল ৩টার দিকে ছালেহ আহমদের ছেলে ইব্রাহিম উত্তেজিত হয়ে লাঠি ও ছুরি নিয়ে আনসার বেগম ও তাঁর বাবা মকবুল আহমদ ওপর হামলা করেন। ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আনসার বেগম। এ সময় শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়। আহতরা হলেন, মো. রফিক (১০), মো. সোহেল (১২) ; ছালেহ আহমদ (৬২), তার স্ত্রী দিলবাহার (৪২) ও ছেলে ছুরিকাঘাতে অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আনসার বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ ছালেহ আহমদ, তাঁর স্ত্রী দিল বাহার , ছেলে ইব্রাহিম , ইউসুফ (২২), কবিরাজ সৈয়দ আহমদ (৬৫) ও তাঁর ছেলে মো. হোসেনকে (১৮) আটক করে।

এর মধ্যে আহত ছালেহ আহমদ, দিল বাহার ও ইব্রাহিমকে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলেও অপর তিনজনকে টেকনাফ থানা-পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের ছোট বোন দিল আরা বেগম বলেন, ‘আনসার বেগম চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ও ৫ সন্তানের জননী। এ ঘটনায় আনসারের স্বামী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করবেন।’ টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, লাশটি উদ্ধার করে কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন