মিসাইল ছুঁড়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ধ্বংস করলো ইরান

ইমান২৪.কম: মহড়াটি চলার সময় এতো বেশি গোলাগুলি হয় যে, ওই অঞ্চলের দুইটি সামরিক ঘাঁটিতে সাময়িক সতর্কাবস্থা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর আদলে সাজানো একটি “ডামি” বা সাজানো রণতরী মিসাইল ছুঁড়ে ধ্বংস করেছে ইরান।

এক প্রতিবেদনে এখবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই মহড়ার সময় এতো বেশি গোলাগুলি হয় যে, ওই অঞ্চলের দুইটি সামরিক ঘাঁটিতে সাময়িক সতর্কাবস্থা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। একইসাথে, একে ইরানের “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া” আচরণ বলে নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

সেইসঙ্গে এই আচরণকে ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা বলেও বর্ণনা করা হয়। ভূমধ্যসাগরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই মহড়ার ঘটনা ঘটলো। “নবী মোহাম্মদ চতুর্দশ” নামের এই মহড়াটি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ভূমধ্যসাগরে নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে, এমন একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর আদলে নকল একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়। যেটির দুইপাশে মডেল যুদ্ধবিমান, রানওয়ে ইত্যাদিও সাজানো ছিল। এরপর বিভিন্ন কোন থেকে মিসাইল ছুঁড়ে মারা যায়, যার কয়েকটি ওই নকল রণতরীটি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।

পাশাপাশি, আরেকটি হেলিকপ্টার থেকেও রণতরীটির দিকে মিসাইল ছোঁড়া হয় ইরানের পক্ষ থেকে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ”আজকের মহড়ার মধ্য দিয়ে বিমান ও নৌবাহিনীর আক্রমণ করার সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে।”

ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র শনাক্ত করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত আর কাতারের সেনা ঘাঁটিকে সতর্ক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ ফ্লিটের মুখপাত্র কমান্ডার রেবেকা রিবারিচ বলেছেন, ”সমুদ্র চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগীদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা মহড়া চালিয়ে থাকে। তবে ইরান আক্রমণাত্মক মহড়া করেছে যা ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগের একপ্রকার চেষ্টা।”

ফেসবুকে লাইক দিন