তারা কখনও বলত যে, আমরা আল্লাহর বন্ধু , আবার কখনও বলত যে আমরা আল্লাহর ছেলে!

ইমান২৪.কম: আজ সুরা জুমআ সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ সুরা জুমআর পঞ্চম আয়াতে মহানবী (সা)’র যুগে মদীনা ও তার আশপাশে বসবাসকারী ইসলাম-বিদ্বেষী ইহুদিদেরকে ভারবাহী গাধার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলছেন: ‘যাদেরকে তওরাত দেয়া হয়েছিল,এরপর তারা তার অনুসরণ করেনি,তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মত, যে কেবলই কিতাব বহন করে কিন্তু কিতাবের বক্তব্য থেকে কোনো কল্যাণই অর্জন করে না,তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে,তাদের দৃষ্টান্ত কত নিকৃষ্ট! আল্লাহ জালিমদেরকে পথ দেখান না।’ এরপর সুরা জুমআ’য় মৃত্যু প্রসঙ্গে বক্তব্য এসেছে। ইহুদিরা দাবি করত যে তারা আল্লাহর মনোনীত বিশেষ জাতি। তারা কখনও কখনও বলত যে, আমরা আল্লাহর ছেলে। আবার কখনও বলত যে আমরা তথা ইহুদি জাতি আল্লাহর বন্ধু। এসব দাবির জবাবে সুরা জুমআ’র ষষ্ঠ আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন, হে রাসুল!

আপনি ইহুদিদের বলুন: হে ইহুদীরা,যদি তোমরা দাবী কর যে,তোমরাই আল্লাহর বন্ধু -অন্য কোন মানব নয়,তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। -অর্থাৎ ইহুদিদের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের আল্লাহর বন্ধু হওয়ার দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তা প্রমাণের জন্য তারা মৃত্যু কামনা করুক। কারণ মৃত্যুর মাধ্যমে তারা প্রিয় বন্ধুর সাক্ষাৎ পাবে। কিন্তু ইহুদিরা মৃত্যুকে খুবই ভয় পেত। আসলে দুনিয়ার জীবন তাদের কাছে খুব প্রিয় ছিল বলেই তারা মৃত্যুকে এত বেশি ভয় পেত। সুরা জুমআ’র সপ্তম আয়াতে মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলছেন: যেসব কাজ ইহুদিরা করেছে সেসবের কারণে তারা কখনও মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ জালেমদের সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন। -আসলে মৃত্যু-পরবর্তী জীবন সম্পর্কে যাদের বিশ্বাস নেই তারা মৃত্যুকে ভয় পায়। তারা মনে করে মৃত্যু এমন এক দানব যা মানুষের অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দেয়।

এ ছাড়াও মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার আরেকটা বড় কারণ হল, ব্যাপক জুলুম ও পাপে জড়িত হওয়া। জালেম ও পাপীরা জানে যে কিয়ামতের পর তথা বিচার-দিবসে তাদের জন্য মহাশাস্তি বা কঠোর খোদায়ি আজাব অপেক্ষা করছে। আর ইহুদিরাও ব্যাপক দুনিয়া-পূজা এবং পাপাচার ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্যাতনে কারণে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুকে ভয় পায়। সুরা জুমআ’র ৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: হে নবী! আপনি ইহুদিদের বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছ, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে, এরপর তোমরা অদৃশ্য,দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে হাজির হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কাজ,যা তোমরা করতে। অনেক মানুষই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য নানা কৌশল ও পরিকল্পনা করে। কিন্তু এসবে কোনো কাজ হয় না। একদিন মানুষকে ঢলে পড়তে হয় মৃত্যুর কোলে। প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের জন্য মৃত্যু অবধারিত।

মহান নবী-রাসুল ও আল্লাহর ঘনিষ্ঠ ফেরেশতারাও মৃত্যুর শিকার হন। একমাত্র মহান আল্লাহই হচ্ছেন অবিনশ্বর ও চিরঞ্জীব। প্রত্যেক মানুষকেই আল্লাহর আদালতে উপস্থিত হতে হবে এবং সব কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। -এ বিষয়টিও সার্বজনীন বিধান। তাই মৃত্যুর ভয় থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হল কাজ-কারবারকে পবিত্র করা এবং অন্তরকেও নানা পাপ ও কদর্যতা থেকে ধুয়ে-মুছে সাফ করা। যার কৃতকর্ম স্বচ্ছ ও পবিত্র কিয়ামতের দিন তার কোনো ভয় নেই, তাই মৃত্যুকে ভয় পাওয়ারও কোনো কিছু নেই তার জন্য। সুরা জুমআ’র ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক সামাজিক-রাজনৈতিক ফরজ ইবাদত তথা জুমআ নামাজ প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছেন। এই নামাজ মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা ও ঈমান জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মহান আল্লাহ সব মু’মিন মুসলমানকে বলছেন: হে ঈমানদাররা, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বন্ধ কর বেচাকেনা । এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জান। -আত্মিক পরিশুদ্ধি ছাড়াও জুমআর নামাজ মুসলমানদের বিশাল সাপ্তাহিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্মেলন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। হজ ও ঈদের জামায়াতের পরই জুমআর সমাবেশ মুসলমানদের বৃহত্তম সমাবেশ। সুরা জুমআ’র দশম আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন: এরপর (জুমআর) নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহের সন্ধান কর ও আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর,যাতে তোমরা সফল হও। -মহান আল্লাহর অনুগ্রহ বলতে বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক সব ধরনের অনুগ্রহকেই বোঝায়। পরম করুণাময়ের দয়ার কোনো শেষ নেই। কিন্তু অন্তহীন সেই দয়ার কিছু অংশ পাবার জন্যও দরকার প্রচেষ্টা।

তাই খুব বেশি মাত্রায় মহান আল্লাহর স্মরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর স্মরণ মানুষকে অসচেতনতা থেকে রক্ষা করে তাকে নিয়ে আসে সাফল্যের রাজপথে। একবার ক্ষরা ও দুর্ভিক্ষ-পীড়িত মদিনায় বিশ্বনবী (সা) যখন জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন তখন সিরিয়া থেকে মদিনার বাজারে খাদ্যের চালান আসার সংবাদ পেয়ে বেশিরভাগ মুসল্লিই খুতবা শোনা বাদ দিয়ে সেই খাদ্য কাফেলার দিকে ছুটে যান। সুরা জুমআ’র শেষ আয়াতে ওই মুসল্লিদের তিরস্কার করে মহান আল্লাহ বলছেন: তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়া-কৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো তথা জুমআ’র খুতবা পড়া অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়।

বলুনঃ আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসার চেয়ে উত্তম। আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা। -এটা স্পষ্ট জুমআ’র নামাজে উপস্থিতির ফলে ও মহানবীর (সা) আধ্যাত্মিক এবং শিক্ষামূলক উপদেশে পরিপূর্ণ ভাষণ শোনার কারণে যে খোদায়ি পুরস্কার ও বরকত রয়েছে অন্য কোনো কিছু তার সঙ্গে তুলনারই যোগ্য হতে পারে না। এমন মহাবরকতময় সভায় যোগ দেয়ার কারণে যারা ভাবে যে তাদের -রুজি কমে যাচ্ছে তাদের মনে রাখা দরকার মহান আল্লাহই সবচেয়ে বড় রিজিকদাতা।

আরও পড়ুন: রাজশাহী পুলিশের অর্ধশত গাড়ির নেই কোনো কাগজপত্র

ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবিতে মাওলানা ভাসানীর ৪৮ শিক্ষকের পদত্যাগ

ফেসবুকে লাইক দিন