হাসপাতাল থেকে দেশবাসীর প্রতি আল্লামা শফী’র আকুল আবেদন!

ইমান২৪.কম: আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ প্রিয় দেশবাসী! প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা বিশ্বের ন্যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও বিপর্যস্ত। এ একটি ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব।

ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, আমদানী-রফতানী সবই বন্ধ। কৃষক-শ্রমিক-দিনমুজুর তথা খেটে খাওয়া মানুষগুলো আজ কর্মহীন। নিম্নবিত্ত থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে।

এ নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ আজ বড় অসহায় ও অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছেন। এমন দুর্দিনে সমাজের বিত্তবানদের মানুষের পাশে দাঁড়াবার নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের জন্য কিছু করার মোক্ষম সময়। আসুন যার যার সাধ্যানুযায়ী খাদ্য, ইফতার সামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি!

প্রিয় দেশবাসী! ‌আপনারা অবশ্যই অবগত আছেন যে, দেশের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (কওমী মাদরাসা) জাতির ঈমান-আকীদা ও দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনে নিরন্তন ভূমিকা রেখে আসছে।শতাব্দিকাল থেকেই কওমী উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশ তথা জাতির যেকোন দুর্যোগ ও সংকটময় মুহুর্তে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে।

এ কওমী মাদরাসাগুলো কোন ধরনের সরকারী অনুদানে পরিচালিত হয় না। মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ, আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়ায় প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালিত হচ্ছে।পুরো বাংলাদেশে এমন কওমী মাদরাসার সংখ্যা লক্ষাধিক। এসব মাদরাসার নির্দিষ্ট বা স্থায়ী কোন আয়ের উৎস নেই। মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই প্রতিষ্ঠানসমূহের মূলধন।

প্রিয় দেশবাসী! আল্লাহর রহমত ও আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় পরিচালিত কওমী মাদরাসাসমূহের সারা বছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য পবিত্র রমজান মাসে জনগণ থেকে দান-অনুদান সংগ্রহ করে থাকে। বর্তমান করোনার বির্পযস্ত পরিস্থিতির শিকার দীনি প্রতিষ্ঠানগুলোও।

যার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যায়নরত অসহায়-এতিম তালিবে ইলম, উস্তাদ ও কর্মচারীদের খাদ্য, বেতন-ভাতা ইত্যাদি ব্যয় নির্বাহ চরম সংকটে পড়েছে। এমতাবস্থায় সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পূর্বের চেয়ে আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু এ মাদরাসাসমূহে দান-অনুদানের মাধ্যমে অসহায় মানুষের সহযোগিতা হয় পাশাপাশি ইসলাম প্রচারে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

প্রিয় দেশবাসী! তাই উল্লিখিত দুর্যোগ ও সংকটময় সময়ে দেশের দ্বীনদরদী দানশীল ভাই-বোনদের খেদমতে বিশেষ আবেদন, ঐতিহ্যবাহী এ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বহুমুখী প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন এবং সার্বিক ব্যয় নির্বাহের জন্য আপনাদের সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করবেন।

এককালীন দান-অনুদান, খাদ্যসামগ্রী, যাকাত, সাদকা, ফিতরা, ইত্যাদি মুক্তহস্তে নিজে দান করুন এবং অন্যকে দান করতে উৎসাহিত করতঃ মহান আল্লাহ তাআলার রেযামন্দি হাসিল করতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি! আহ্বানে- আল্লামা শাহ আহমদ শফী- মহাপরিচালক, আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী,চট্টগ্রাম। আমীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

ফেসবুকে লাইক দিন