টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী ৩২ জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু উদ্ধার

ইমান২৪.কম: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় রোহিঙ্গা নারী ও শিশুসহ ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে।

আজ শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ, গোলারচর ও শিলখালি উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফেটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুদ-জ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকেএই এথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দালালের খপ্পরে পড়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল ৩২ জন। এর মধ্যে ৩০ জন রোহিঙ্গা এবং দুজন বাংলাদেশি। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭ জন নারী, সাত শিশু ও ছয় জন পুরুষ।’

বিজিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, যাত্রীরা কেন কীভাবে ও কার মাধ্যমে সেখানে যাচ্ছিল তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়ার রোহিঙ্গাদের গত বছর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে অাশ্রয় নেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

>>বান্দরবান সীমান্তে ছয় দিনে ২০৩ বৌদ্ধ শরণার্থীর অনুপ্রবেশ:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাণসা সীমান্ত দিয়ে মিয়ামারের দুই শতাধিক শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা সবাই বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৩। তারা সীমান্তের চাইক্ষ্যং পাড়ায় খোলা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে অবস্থান করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নজর রাখছে পর্যবেক্ষণ টিম।

বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের চীন রাজ্যের প্লাতোয়া জেলায় সম্প্রতি মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সীমান্তের ওপারে খামংওয়া, তরোয়াইন, কান্তালিন এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় হেলিকাপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে লোকজন ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনারা।

আতঙ্কে এসব নাগরিক মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের চাইক্ষিয়াং পাড়া, নেপু পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে সীমান্তে শরণার্থী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ টিম পাঠানো হয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা বাহিনীর টিম পাঠানো হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রুমা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এ পর্যন্ত শিশুসহ ১৬৩ জন অনুপ্রবেশ করেছে এলাকাটিতে। তবে দেশের ২য় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেউক্রাডং থেকে ওই এলাকায় হেঁটে পৌঁছাতে অন্তত একদিন সময় লাগার কারণে এখনও পর্যন্ত সেখানে সরকারিভাবে কোনো খাদ্য বা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা কোনোভাবে সেখানে অবস্থান করছেন।

গত ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যে সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের পর আতঙ্কে খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সীমান্ত পথে বান্দরবান দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ শুরু করে।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাসসুল আলম বলেন, সেখানে বিজিবি ও সেনা সদস্যদের পাঠানো হয়েছে, তারা পর্যবেক্ষণ করে ফিরলেই আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি দেশটির স্বাধীনতা দিবসের দিন ভোরে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইনের চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা। তাদের হামলায় মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনী বিজিপির ১৩ সদস্য নিহত হন। আরাকান আর্মির দাবি, ওই হামলায় তাদেরও দুই সদস্য নিহত হন।

আরও পড়ুন:  কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ঐক্যফ্রন্ট

এখন বিজ্ঞাপন দিয়েও কাজের মানুষ পাওয়া যায় না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

০১৫৩৭-৭০৭০৭০ নম্বরে সার্বক্ষণিক পাওয়া যাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে

দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের ছেড়ে শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত দুদক: হাইকোর্ট

বিনা টিকেটে ঢুকতে না দেয়ায় পুলিশের স্টলে ছাত্রলীগের ভাংচুর-লুটপাট

এখন থেকেপুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যাবে সরাসরি, খোলা হয়েছে কমপ্লেইন সেল

ফেসবুকে লাইক দিন