জুমার নামাজ শুরুর আগেই মসজিদে তালা!

ইমান২৪.কম: মনিরামপুর বাজারের সবচেয়ে বড় মসজিদ কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে যেখানে সমবেত হন শতাধিক মুসুল্লি। জুমার দিন জমায়েত হন প্রায় ২৫০-৩০০ মুসুল্লি। এদিকে শুক্রবার (২৩ জুলাই) এই মসজিদে জুমা পড়তে দুপুর ১২টার আগ থেকে জমায়েত হতে থাকেন মুসুল্লিরা। আজানও হয় আগেভাগে। তারপরেই শুরু হয় বাংলা খুতবা। নামাজও শুরু হয় আগেভাগে।

অন্যদিনের মত শুক্রবার ১২টা ২০ মিনিটের আগেই মসজিদের ভিতরে মুসল্লিরা প্রবেশ করেন। বারান্দা তখনো খালি। খালি ছিল মসজিদের দ্বিতীয় তলা। এমন সময় পুলিশ নিয়ে মসজিদের প্রধান ফটকে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান। অবস্থান করেন কিছু সময়। তিনি মসজিদের খতিব নিজাম উদ্দিনের সাথে কথা বলে সরকারি নির্দেশনা মানতে পরামর্শ দেন।

এর পরপরই মসজিদের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। পরে কিছু মুসুল্লি মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করেন। অনেকে ফিরে যান। এদিকে জুমার নামাজের আগে মসজিদের ফটকে তালা দেওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এরপরই নানা সমালোচনা শুরু হয়। যদিও করোনা সংক্রমন রোধে লকডাউন মেনে

মসজিদে জুমার জামাতে ২০ জন এবং ওয়াক্তিয়া নামাজে ৫ জন মুসুল্লির উপস্থিতিতে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।মসজিদের খতিব নিজাম উদ্দিন বলেন, ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ইউএনও এসে আমাকে ডেকে কথা বলেন। তখন ভিতরে বাংলায় খুতবা চলছিল। ভিতরে মুসুল্লিরা ছিলেন বেশ ক’জন। তিনি হয়তো তালা দেওয়ার কথা বলেছেন। আমি স্পষ্ট না। তাঁর সাথে কথা বলে আমি ভিতরে চলে আসি। পৌনে একটার দিকে জামাত শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, ইউএনও যখন আসেন তখন মসজিদের ভিতরে একশ মুসুল্লি উপস্থিত ছিলেন। তিনি সরকারি নির্দেশনা মানার কথা বলেন। আর যেন লোক ঢুকতে না পারে সেজন্য গেটে তালা দেওয়া হয়েছে।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, আমি কেন্দ্রিয় মসজিদের সামনে গিয়ে খতিবের সাথে কথা বলেছি। তাঁকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা বলে চলে এসেছি। গেটে তালা মারার বিষয়টি বলতে পারব না। আমিওতো মুসলিম। নামাজ আদায় করি। এমন কথা আমি বলব কেন।

ফেসবুকে লাইক দিন