জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার

ইমান২৪.কম: ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ করছে ভারত সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জামাত-ই-ইসলামির জম্মু ও কাশ্মীর শাখাকে দেশবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আগামী ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এরপরই ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভারতের বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন ১৯৬৭–এর আওতায় মোদি সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানেই উপত্যকার জামাত-ই-ইসলামি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার কথা জানানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে তার উল্লেখও করা হয়েছে রাজনাথ সিং-এর অধীনে থাকা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে।

যে সকল কারণে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে এত বড় নির্দেশ কার্যকর করা হল তার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সংগঠনের সদস্যদের অনৈতিক কাজকর্ম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে জামাত-ই-ইসলামি নানাবিধ অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যা দেশ এবং সমাজের পরিপন্থী।

একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পেশ করা বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কাজকর্ম বা জঙ্গি বাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ ছিল এই সংগঠনের। সমগ্র জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে অনেক হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে এই সংগঠনের সদস্যরা জড়িত থাকে। কেউ কেউ প্রত্যক্ষভাবে থাকলেও অনেকে পরোক্ষভাবে হিংসায় মদত দেয়। এছাড়াও কাশ্মীরের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিকেও নিয়মত সাহায্য করে এই জামাত-ই-ইসলামি।

এই হিংসা বা সন্ত্রাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই মূলত নিষিদ্ধ করা হয়েছে উপত্যকার এই সংগঠনটিকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আপাতভাবে বিষয়টির মিট্মাট হয়ে গিয়েছে বলে মনে হলেও ঠান্ডা লড়াই একটা চলছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় জম্মু-কাশ্মীরের সংগঠনকে সন্ত্রাসের অভিযগে নিষিদ্ধ করে দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামির নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে ওই সংগঠনটি সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থায় মদদ দিয়ে চলেছে। সম্প্রতি এই সংগঠনের ১৫০ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের জামাত-ই-ইসলামির বর্তমান আমির হলেন আবদুল হামিদ ফয়াজ।

আরও পড়ুন:  একটি চিরকুট যেভাবে পাল্টে দিল মোদির সব হিসাব নিকাশ

পাকিস্তানকে অকুণ্ঠভাবে সমর্থন দেয়ার ঘোষনা দিল তুরস্ক

ভোটার না আসার দায় ইসির নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর: সিইসি

বাবা-মাকে নিয়ে থাকলে বাসা ভাড়া কম ৫০০, যা বললো আলোচিত বাড়ির মালিক

পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আর বাড়াতে চায় না ভারত

শত্রুদের প্রতি সদয় হওয়া, ভালো ব্যবহার করা আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ: পাক সেনা কর্মকর্তা

ফেসবুকে লাইক দিন