জাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষে শতাধিক আহত

আজ সোমবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই সকাল সাড়ে দশটায় অবস্থান নেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। রাস্তার দুপাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

এসময় কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টানা তিন ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। তখন শিক্ষার্থীরাও পুলিশের দিকে ইট পাটকেল মেরে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলা এই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদেরকে সাভারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আলম, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শিক্ষার্থীদেরকে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ, কাঁদানি গ্যাস ও টিয়াসেল ছুঁড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই সময় শিক্ষার্থীরা দৌড়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করলেও পুলিশ ক্যাম্পাসের ভিতরেও রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। এতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পরেও শিক্ষার্থীরা আবারও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করতে যায়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং মহসড়কে ফের যান চলাচল শুরু হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পুলিশ অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকার নাইন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে পারি নাই। পরে পুলিশ তাদের সরাতে কাঁদনি গ্যাস ছোঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে ‘পরীক্ষা নিরীক্ষা’ করবে এবং এ নিয়ে সমাধানের উপায় খুঁজবে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে যারা হামলা করেছে তাদের ছাড়া হবে না।

 

বিদ্যমান কোটার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে—সরকারের এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আগামী ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিকেলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সরকার অনড় অবস্থানে নেই। আমরা তাদের দাবির যৌক্তিকতা ইতিবাচকভাবে দেখি।’

বৈঠকের পর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করছেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে আজকের মধ্যে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ও বাংলা একাডেমি এলাকায় পৃথকভাবে অবস্থান নিয়ে তারা সিদ্ধান্তকে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁরা বলেন, এ সিদ্ধান্ত তাঁরা মানতে রাজি নন। কোটা সংস্কারে সুস্পষ্ট আশ্বাস না দিলে তাঁদের পক্ষে এ দাবি মানা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিস্ট কোনো আশ্বাস না থাকায় তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনকারীদের এ অংশটি বলছে, অন্য ইস্যু সামনে চলে এলে এ ইস্যু হারিয়ে যাবে।

ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন