ছাত্রলীগ সভাপতি যখন চা বিক্রেতা !

ইমান২৪.কম: মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের কামরুল হাসান ২০০২ সালে এসএসসি পাশ করে মহম্মদপুর আমিনুর রহমান কলেজে ভর্তি হন।

তার রাজনৈতিক দুরদর্শীতা ও সাহসীকতা দেখে দলীয় নেতৃবৃন্দ ২০০৪ সালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত করেন। তখন ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি। ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি।

আমিনুর ২০০৫ সালে এইসএসসি পাস করেন। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার খবর কেউ নেয়নি। সংসারের অভাবের কারণে লেখাপড়া করতে না পেরে চাকরির জন্য অনেক নেতার পেছনে ধরণা দিয়েছেন।

অর্থ এবং তদবিরের অভাবে চাকরি ভাগ্যে জোটেনি তার। পরে নিজের স্ত্রীর চাকরির জন্যেও অনেক চেষ্টা করেও চাকরি মেলাতে পারেনি। তার স্ত্রী রেহেনা বেগমও এইসএসসি পাস ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান।

উপায়ন্তর না পেয়ে কামরুল শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। সেই উপার্জন দিয়ে সংসার চালাতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে তিনি চা বিক্রি করে সংগ্রামের মধ্যেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ছাত্র জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রাম আর বর্তমানে জীবন সংগ্রামের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। মধুমতি নদীর করাল গ্রাসে স্বর্বস্ব হারানো তার পরিবারটি এখন নদীতীরবর্তী এলাকায় চার শতাংশ জমির উপর বসবাস। আর কোনো জমিজমা নেই তার।

রাজমিস্ত্রীর সহকারীর কাজে ৩০০ টাকা পেত কামরুল। তা দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবার চলতোনা। তাই এনজিও থেকে লোন নিয়ে দুই বছর আগে উপজেলা শহরের খাদ্য গুদামের পাশে চায়ের দোকান শুরু করেন। সঙ্গে বিস্কুট, কলাসহ মুদি সামগ্রী বিক্রি করে বেশ ভালই চলছিল কামরুলের।

সম্প্রতি এনজিও’র কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দোকানের বেহাল দশা। ছয়মাসে বাকি পড়ে ষাট হাজার টাকা। টাকা চায়তে গেলে দেনাদারের ধমক খেয়ে ফিরে আসতে হয়।

সোমবার চায়ের পাতি কিনতে না পেরে দোকান খুলতে পারেননি তিনি। দোকান না খোলায় এনজিও কর্মী কিস্তির টাকা নিতে দাঁড়িয়ে আছেন দোকানের সামনে।

তার বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ বৃদ্ধ পিতার কাছ থেকে জানা যায়, এনজিও’র কিস্তির টাকা যোগাড় করতে শ্রমিকের কাজে গেছেন।

অসুস্থ বাবা মুসা মিয়া শয্যাশায়ী, মা জবেদা বয়সের ভারে মুহ্যমান। স্ত্রী রেহেনা গৃহস্থালির কাজকর্ম করেন। তাদের ঘরে ৮ বছরের রোমান নামের শারিরীক প্রতিবন্ধী অসুস্থ একটি সন্তান। তার চিকিৎসা দিতে মাসে খরচ হয় দুই হাজার টাকার বেশী।

সব মিলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সংগ্রামী সেই ছাত্রনেতা কামরুল এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অর্থাভাবে তিনি পারছেন না অসুস্থ পিতা এবং প্রতিবন্ধি সন্তানের চিকিৎসা খরচ চালাতে।

কামরুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার স্বপ্নের কথা, তার ইচ্ছের কথা। তার ইচ্ছে ছিলো লেখা-পড়া শেষ করে চাকরি করে সংসারের অভাব মোচন করবে। তার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়।

অশ্রুভেজা চোঁখে তিনি জানান, টাকার অভাবে চায়ের দোকানটি এখন চালাতে পারছেন না। এনজিও থেকে লোন নিয়ে দোকানটি শুরু করেছিলেন। দোকানে মালামাল না থাকায় আগের মত বেচা-বিক্রিও নেই। বাধ্য হয়ে তিনি নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিয়েছেন।

তার অভিযোগ প্রায় একযুগ ধরে চরম দুরাবস্থার মধ্যে থাকলেও কখনো কোন নেতা তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি কেউ। বরং অনেক সময় নেতারা তার দোকান থেকে চা খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে গেছেন।

মহম্মদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ বিপ্লব বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল কখনো কোনো বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসেননি। তবে আমরা শ্রীঘ্রই মিটিং ডেকে তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, আমি তার দুরাবস্থার খবর জানতে পেরেছি। এতদিন দলীয়ভাবে তার জন্য কিছু করা উচিৎ ছিল। দলীয়ভাবে মতবিনিময় করে আমরা দ্রুত কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করব।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

আরও পড়ুনঃ ইসলামি শরিয়ত বিরুধী হওয়ায় স্ট্যাচু ভেঙ্গে ফেলল মালদ্বীপ সরকার

তাবলিগ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছি, কিন্তু আলেমদের বিরোধিতা করিনি: মাও. ইয়াহইয়া মাহমুদ

ফেসবুকে লাইক দিন