চীনা ফাঁদে পা দিয়েছে বাংলাদেশ?

ইমান২৪.কম: একটা সময় ছিল যখন চীন বিভিন্ন দেশে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সাহায্য দিত, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করত। তাদের কোনো রাজনৈতিক অভিপ্রায় ছিল না। বলা হতো যে চীন কোনা সরকার ক্ষমতায় আছে সেটির দিকে মাথা ঘামায় না। বরং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকেন তার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বাজার বৃদ্ধির তৎপরতা চালিয়ে নিতে চায়।

এভাবেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করেছে চীন। তবে চীনের এই কৌশল যে সাময়িক ছিল তা এখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি এখন রাজনৈতিক আধিপত্য দিকে দিকেও মনোযোগী হয়েছেন চীন। চীন যে কৌশলটি নিয়েছে তা হলো অর্থনৈতিকভাবে প্রথমে একটা দেশকে নির্ভরশীল করে তারপর সেই সরকারকে জিম্মি করে এবং সেই সরকারকে পুতুল বানিয়ে তাকে দিয়ে সবকিছু করিয়ে নেয়। মূলত চীন যে সমস্ত দেশগুলোকে ফাঁদে ফেলে সেই দেশগুলোকে ব্যবহার করে তার প্রতিপক্ষদের জন্য।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মাথাব্যথা এখন চীন কিন্তু তারপরেও অর্থনৈতিক কারণে চীনের বিরুদ্ধে তেমন কথা বলতে সাহস পায় না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময় দেখা যায় যে, মিয়ানমারে আধিপত্যবাদী সামরিক জান্তা টিকে আছে চীনের সহায়তার জন্য। বিভিন্ন দেশে চীন এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে।

এই উপমহাদেশে চীনের প্রতিপক্ষ হলো ভারত। কাজে ভারতকে প্রতিহত করতে এই উপমহাদেশে চীন এখন নতুন মেরুকরণ করছে। নেপাল, শ্রীলংকা, মালদ্বীপে চীনের কেবল এখন অর্থনৈতিক আধিপত্য নয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আর পাকিস্তান তো দীর্ঘদিন ধরেই চীনের একান্ত অনুগত অনুগত হিসেবেই কাজ করে আসছে। চীনের পরবর্তী টার্গেট কি বাংলাদেশে? এই রকম একটি আলোচনা এখন কূটনীতিক অঙ্গনে বেশ জোরেশোরেই হচ্ছে।

বিশেষ করে চীনা রাষ্ট্রদূত কোয়াড নিয়ে বাংলাদেশকে যে ধরনের হুমকি মূলক বক্তব্য দিয়েছেন তার পর থেকে বাংলাদেশে চীনের অভিপ্রায় কে নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন উঠেছে। যদিও চীনা রাষ্ট্রদূত পরবর্তীতে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করেছে কিন্তু এই বক্তব্য প্রত্যাহার করলেও কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী তার এই বক্তব্য তুলে নেওয়া যায় না। এই বক্তব্যের মধ্যে চীনের বাংলাদেশ ভাবনার লুকিয়ে আছে। চীন কি তাহলে বাংলাদেশকে অন্য দেশগুলোর মতোই ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে যেখানেই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে চীনের উপর নির্ভরশীল করে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া যেখান থেকে বাংলাদেশে যেন আর বেরুতে না পারে।

আর এই রকম একটি নির্ভরতার জায়গা থেকে যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়গুলো উপর চীন হস্তক্ষেপ শুরু করে তাহলে সেটি হবে বিপদজনক। বিশেষ করে বাংলাদেশে কার সঙ্গে চুক্তি করবে, কার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে ইত্যাদি বিষয়গুলো এক ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের শামিল। এখন প্রথম ধাপে ছিল বাংলাদেশকে সহায়তা করা এবং সেই বিষয়ে সহায়তা করা যেখানে ভারত অস্বস্তিতে পড়ে। চীনের দ্বিতীয় লক্ষ হল যে বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। এরপরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ব্যাপারেও যে চীন হস্তক্ষেপ করবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে। চীনের ফাঁদেই কি পড়ছে তাহলে বাংলাদেশ? bangla insider

ফেসবুকে লাইক দিন