চিঠিতে যা লিখেছেন ড. কামাল

ইমান২৪.কম: আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রবিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য সম্বলিত ঐক্যফ্রন্ট প্রতিনিধিদলের চিঠিটি গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। চিঠিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে অর্থবহ সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৫ নেতা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ.ক.ম শফিকুল্লাহ চিঠিটি পৌঁছে দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ও ওবায়দুল কাদেরকে দেয়া চিঠিতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর স্বাক্ষর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে ড. কামাল বলেছেন, যে সকল মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে উজ্জীবিত ও আত্মত্যাগের উদ্বুদ্ধ করেছিল- তার অন্যতম হচ্ছে ‘গণতন্ত্র’। গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের পক্ষে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং জনগণকে শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে- রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করবে- এটাই আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। এতে বলা হয়, আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনকে একটি মহোৎসব মনে করে।

‘ব্যক্তির এক ভোট’ এর বিধান জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুই নিশ্চিত করেছেন- যা রক্ষা করা আমাদের সবার সাংবিধানিক দায়িত্ব। চিঠিতে আরও বলা হয়, ইতিবাচক রাজনীতি একটা জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করে- জনগণের ন্যায়সংগত অধিকারগুলো আদায়ের মূলশক্তিতে পরিণত করে- তা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন। নেতিবাচক রুগ্ন রাজনীতি কীভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়। চিঠিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, এ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো আজ আমাদের জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা দাবি ও ১১ দফার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।

একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সবার অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে এবং সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। এদিকে চিঠি দেয়ার পর জগলুল হায়দার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দুটি চিঠি নিয়ে এসেছি। একটি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং অপরটি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবর দিয়েছি। আমাদের ৭ দফার বিষয়ে তাঁদের চিঠি দিয়েছি।’ চিঠির বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওনারা দুটি চিঠি দিয়ে গেছেন। এখনো চিঠি খুলিনি, চিঠিতে কী লেখা তা আমি জানি না। কিছুক্ষণ পর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আসবেন। ওনার কাছে চিঠি দেয়া হবে। কাল অপর চিঠিটি সভানেত্রীকে (শেখ হাসিনা) দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেই মাজার জিয়ারত করলেন ড. কামাল-ফখরুলের

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুকে লাইক দিন