চাপের মুখে ফেইসবুক!! আস্থা হারাচ্ছে ব্যবহারকারীরা

কিছুদিন ধরেই ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ফেসবুক। অভিযোগ উঠেছে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক। ওই অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ব্যবহারকারীকে না জানিয়ে ৫ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য একটি রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থাকে সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠার পর থেকে বিপদের মুখে রয়েছে ফেসবুক। সেই তথ্য পরে ব্যবহার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের কাজে। এ কাজের সঙ্গে জড়িত এক অধ্যাপক সম্প্রতি মুখ খোলায় প্রকাশ্যে এসেছে সবকিছু। এখন পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদেরা।

সংস্থাটির প্রধান অ্যালেক্সান্ডার নিক্সকে এই অভিযোগের পরই বরখাস্ত করে কোম্পানিটির বোর্ড। তবে এই ঘটনায় কোনো ভুল কিছু করেছে বলে মনে করছে না সিএ।

বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ও স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন অ্যালায়েন্স (এসসিএল) নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করেছে। এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে ফেসবুক ও ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা।

ব্রিটিশ ও ইউরোপিয়ান সংসদ ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গকে তলব করেছেন এই বিষয়ে সঠিক প্রমাণাদি দেওয়ার জন্য। এই কঠিন সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার হেডকোয়ার্টারে মঙ্গলবার কর্মীদের এক ব্রিফিংয়েও অংশ নেননি মার্ক জাকারবার্গ। এর আগে ফেসবুক বা মার্ক জুকারবার্গ কোনো বিষয়ে এতো বেশি সমালোচনা উচ্চকিত হয়নি বা ক্ষোভ ছড়ায়নি।

এরই মধ্যে ধস নেমেছে ফেসবুকের শেয়ারে। প্রতি শেয়ারের দাম কমেছে ১৭২ ডলার ৫৬ সেন্ট। এক দিনেই ফেসবুকের শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম এতটা কমে যাওয়া নজিরবিহীন।

এক দিনে মাত্র ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার গেছে খোয়া! বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। মাত্র এক দিনে শেয়ারবাজারে ঠিক এই পরিমাণ বাজারমূল্য হারিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক।

ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিষ্ঠাতাও এখন এই ঘটনার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। ২১ মার্চ বুধবার এক টুইটে হোয়াটসঅ্যাপের এক প্রতিষ্ঠাতা, ব্রায়ান অ্যাকটন জানান, ফেসবুক ডিলিট করার সময় এসেছে। তিনি #deletefacebook হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন এই টুইটে।

তার এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকেরই মালিকানাধীন। ২০১৪ সালে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নিয়েছিল ফেসবুক। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ব্রায়ান অ্যাকটন ফেসবুকের সঙ্গে ছিলেন। ফেসবুক ছেড়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগনাল’-এর পেছনে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন।

#deletefacebook হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনেকেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এখন।

অন্যদিক ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ওই সব পদক্ষেপ তথ্যের বেহাত হওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে যথেষ্ট নয়।

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ওয়ালস্ট্রিটে নড়বড়ে হয়ে যায় ফেসবুকের অবস্থান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন অভিযোগে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ফেসবুক। একদিকে যেমন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির ওপর ব্যবহারকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ব্যবসায়িক সুনাম।

ফেসবুকে লাইক দিন