চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ কর্মীকে ছাড়াতে থানা ঘেরাও

ইমান২৪.কম: বরিশালে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্যকে ছাড়িয়ে নিতে থানা ঘেরাও এবং প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি দলীয় ওই সদস্যের মুক্তির জন্য সময়ও বেঁধে দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ।

সোমবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত কাশীপুরে এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাও এবং সদর রোড শহীদ সোহেল চত্বরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ করে মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বিশ্বাস মহানগর আওয়ামী লীগের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই এলাকার বাসিন্দা।

গত রোববার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। জানা গেছে, ‘নগরীর কাশীপুর বাজারে ব্যাটারিচালিত অবৈধ ইজিবাইক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে চাঁদা তুলতো তার সহযোগীরা। বিট আদায় বন্ধ করতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ বরিশাল জেলা কমিটির নেতৃত্বে ‘ইজিবাইক সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়।

কমিটির উপদেষ্টা বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘রিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিট বা চাঁদা দাবি করা হলে আমাদের সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্ব সেটা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা এবং ইজিবাইক ভাঙচুর করা হয়।

এই ঘটনায় গত ৩০শে মার্চ ইজিবাইক সংগ্রাম কমিটির নেতা গোলাম রসুল বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ছয়জনকে নামধারী এবং আরো ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি রিপন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই প্রতিবাদে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু’র নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গোলাম সরোয়ার রাজিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘সরকারবিরোধী একটি চক্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

রিপন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা তারই একটি অংশ মাত্র। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া রিপন বিশ্বাসকে মুক্তি দিতে প্রশাসনকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে রিপন বিশ্বাসকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা। এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, ‘চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। রিপন বিশ্বাসকে ছাড়া না ছাড়া আদালতের ব্যাপার।

এর আগেও ২০শে জানুয়ারি নারী শ্রমিককে ইভটিজিংয়ের অপরাধে গ্রেপ্তার হয় মহানগর আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ড প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ। তাকেও ছাড়িয়ে নিতে গোটা বরিশাল অচল করে দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। কাউনিয়া থানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়। shershanews24

ফেসবুকে লাইক দিন