এবার ভারতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে রেল প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান-চীন

ইমান২৪.কম: গত বুধবার (৫ আগস্ট) ইসলাবাদ চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের (সিপিইসি) অংশ হিসেবে কাশ্মীর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ৬.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি রেললাইন আপগ্রেড পরিকল্পনা অনুমোদন করে।

অন্যদিকে গত সপ্তাহেই থাকোট থেকে হাভেলিয়ান পর্যন্ত ১১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক উদ্বোধনের কথা ঘোষণা করেছে বেইজিং। এই সড়ক হলো ইসলামাবাদ থেকে চীনের জিনঝিয়াং অঞ্চলের রাজধানী কাশগড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন বৃহৎ সড়ক প্রকল্পের অংশ।

ভারতের ইউনিয়ন টেরিটরি কাশ্মীরের পশ্চিমাঞ্চলে বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে এই সড়ক গিয়েছে। সড়কটির নির্মাণ শেষ হলে তা ভারতের দাবি করা ভূখণ্ড লাদাখের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে। এই সড়ক উদ্বোধন পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিচায়ক।

কাশ্মীর অঞ্চলের বিশেষ সাংবিধানিক মার্যাদা ভারতীয় সংবিধান থেকে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার বাতিল করার পর এই ঘনিষ্ঠতা আরো দৃশ্যমান হয়েছে। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ওয়াং দেহুয়া বলেন, চীন-পাকিস্তান পরিবহন প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত বেশ বিচলিত।

এই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং হাইওয়ে প্রকল্প এটা প্রমাণ করেছে। ওয়াং বলেন, আগে কাশ্মীর ইস্যু পাকিস্তান-ভারত-চীন ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে ছিলো না। এখন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত বিষয়টিকে জটিল করে ফেলেছে।

বিশেষ করে লাদাখ ইউনিয়ন টেরিটরি গঠন করে চীনের জন্য বিষয়টিকে জটিল করে তোলা হয়েছে। কাশ্মীরী মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করার পর গত অক্টোবরে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে ভারতের বিজেপি সরকার।

এতে কাশ্মীর অঞ্চলকে দুই ভাগ করে দক্ষিণে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তরে লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্র শাসিত ভূখণ্ড তৈরি করা হয়। ইসলামাবাদ ও বেইজিং উভয়েই এর নিন্দা করে এবং ওই অঞ্চলের উপর দুই দেশেরই দাবি রয়েছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এতে কাশ্মীরকে ভারতের অবৈধ দখলে থাকা পাকিস্তানের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারত এই মানচিত্রকে ‘রাজনৈতিক মস্করা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

গত জুনে ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনের বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের মধ্যে সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। অন্যদিকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষে পাকিস্তান ও ভারতের সেনারা মারা যাচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন