চট্টগ্রামের মাহফিলে যাচ্ছেন না মাওলানা মামুনুল হক

ইমান২৪.কম: চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী হাই স্কুল মাঠে আল-আমিন সংস্থার তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে যাচ্ছেন না মাওলানা মামুনুল হক।

আজ শুক্রবার আকাশপথে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে হাটহাজারী যাওয়ার কথা ছিলো হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক।

তবে বিশৃঙ্খলা এরাতে চট্টগ্রাম না যাওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আওয়ার ইসলামকে এ তথ্য নিশ্চত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও চট্টগ্রামের মাহফিলে যোগদান না করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ না করে আল্লাহর ৯৯ নামের স্তম্ভ নির্মাণের দাবি করায় হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে, চট্টগ্রামে প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ থেকে ভস্কর্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। সমাবেশ থেকে মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানায় তারা। ভাস্কর্য ও মূর্তির মধ্যে পার্থক্য বুঝে না বলে হেফাজতের বিরুদ্ধে অহেতুক সমালোচনাও করে তারা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণও করে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর চট্টলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও সেবামূলক সংগঠন ‘আল আমিন সংস্থা’র ব্যবস্থাপনায় শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ রহ., আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়ব রহ., ও আল্লামা ইদ্রীস রহ. এর জীবন, কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা ও ঐতিহাসিক ৩ দিন ব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল শুরু হয় গত বুধবার। এ মাহফিল শেষ আজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের ২য় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর প্রধান উপদেষ্টা, ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশে সিংহভাগ মুসলমানের বসবাস। এদেশের মানুষ খুবই ধর্মপ্রাণ। দেশের জনগণ ইসলামী জীবনবিধান মেনেই জীবন-যাপন করতে চায়। কিন্তু এদেশের কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও বাম-রামদের এসব সহ্য হয় না। তাই বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তারা ইসলাম, মুসলমানদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে লেগে থাকে। সুযোগ পেলেই ইসলাম ও দেশবিরোধি কর্মকাণ্ড মেতে উঠে। কিন্তু আমরা বেঁচে থাকতে ইসলামবিরোধি কোন ধরণের ষড়যন্ত্র ও কর্মকাণ্ড মেনে নিবো না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সিংহভাগ মুসলমানের বসবাস। এদেশের মানুষ খুবই ধর্মপ্রাণ। দেশের জনগণ ইসলামী জীবনবিধান মেনেই জীবন-যাপন করতে চায়। কিন্তু এদেশের কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও বাম-রামদের এসব সহ্য হয় না। তাই বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তারা ইসলাম, মুসলমানদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে লেগে থাকে। সুযোগ পেলেই ইসলাম ও দেশবিরোধি কর্মকাণ্ড মেতে উঠে। কিন্তু আমরা বেঁচে থাকতে ইসলামবিরোধি কোন ধরণের ষড়যন্ত্র ও কর্মকাণ্ড মেনে নিবো না।

চট্টগ্রামের আপোষহীন শীর্ষ আলেম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আরো বলেন, আমাদের আন্দোলন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে না বরং সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। কাউকে ক্ষমতায় বসানো-উঠানো আমাদের কাজ নয়। তবে আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো, দেশ যারাই পরিচালনা করুক না কেন, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামবিরোধী কার্যক্রম বিন্দুমাত্র সহ্য করা হবে না।

মাওলানা আরশাদ রাহমানী, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুফতী হাবীবুর রহমান কাসেমী ও মাওলানা হাজী ইউছুফ এর ধারাবাহিক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তাফসীর মাহফিলে আরো আলোচনা করেন, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা হামেদ জাহেরী, মাওলানা কুতুবুদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা রাফি বিন মুনির, মাওলানা মেরাজুল হক মাজহারী, মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, মাওলানা সিরাজুল্লাহ, মাওলানা আবু সাঈদ, মাওলানা আনওয়ার শাহ আজহারী প্রমুখ।

ফেসবুকে লাইক দিন