চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে শহীদ হলেন দুই তরুন আলেম

ইমান২৪.কম: সকাল ৮টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে মানুষের ভীড়। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী। কেউ ডুকরে কাঁদছেন। কেউ আবার কাঁদছেন চিৎকার করে। এসময় দেখা গেল মা ও ছেলে অঝরে কান্না করছেন।সান্ত্বনা দেওয়ার আগেই রাস্তায় বসে পড়লেন তারা।

পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুনের ঘটনায় তাদের পরিবারের এক সদস্য মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছেন তারা। মারা যাওয়া ছেলের নাম কাওসার। এ কথা শুনে বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন তার মা। জ্ঞান ফিরে আসলে বিলাপ করছেন।

রাজধানীর উম্মুল মাদারেস জামেয়া হুসাইনিয়া আশরাফুল উলুম বড় কাটারা মাদ্রাসার একজন শিক্ষক মাওলানা ওমর ফারুক ও চকবাজার ট্রাজেডিতে শহীদ হয়েছেন।তিনি চকবাজার এলাকার একটি ফার্মেসীতে প্রতিদিন বাদ এশার পর দায়িত্ব পালন করতেন ।

প্রতিদিনের মত গতকালও রাত ৯ ঘটিকায় বড় কাটারা মাদ্রাসার মসজিদ থেকে এশার নামাজ আদায় করে রাতের খানা খেয়ে গিয়ে ছিলেন তার সেই কর্মস্থলে। পরবর্তীতে অগ্নিকার্ন্ডের ঘটনা জানাজানির পর তিনি নিখোজ জানতে পেয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা সারারাত খোজা খোজির পর সকালে ঢামেকের মর্গে তার লাশ সনাক্ত করে।

মাওঃ ওমর ফারুক বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার নদীভাঙন এলাকায় অবস্থিত। একাধিকবার তাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় পারিবারিকভাবে তারা এক প্রকার নিঃস্ব ছিলেন।

খেদমতে সবার আগে থাকতেন তিনি। আমিনী সাহেব (মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.), মুফতি সাহেবসহ সবাই তাকে স্নেহ করতেন। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ রহ. (আদিব সাহেব) তাকে আদর করে ‘কালো খাদেম’ বলে ঢাকতেন। ছাত্রও মোটামুটি ভালো ছিলেন এবং প্রচুর মেহনতও করতেন। তার আচার-আচরণ, লেখাপড়ায় সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষকরা তাকে বড় কাটরা মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

শিক্ষক হওয়ার পরও তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। মাদরাসায় পড়াতেন আর দুপুরে রাতে একটি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানে সময় দিতেন। কয়েক বছর আগে একটা সন্তানও হয়েছে তার। নিজের ভিটেমাটি বলতে কিছুই ছিলো না। তিনি সন্তানদের জন্য এক টুকরো জমি কেনার স্বপ্ন দেখতেন এবং সেজন্য মুখ বুজে সব কষ্ট সহ্য করতেন।

তিনি বড় কাটরা মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। কানজুদ দাকায়েক, শরহে তাহজিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের পাঠদান করতেন।

আরেক আলেম হাফেজ কাওসারের ছোট ফুটফুটে দুই সন্তান রয়েছে। বাবার সন্ধানে তারাও এসেছে মর্গের সামনে। বাবাকে না দেখতে পেয়ে কান্না করছে তারা। আর স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন কাওসারের স্ত্রী মুক্তা।

মাঝে শহীদ কাওসার। দুই পাশে তার দুই সন্তান।

মর্গের সামনে থাকা কাওসারের বন্ধু আরিফ বলেন, কাওসার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ১৭তম হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি চকবাজারে মদিনা মেডিকেল হল ক্লিনিক চালাতেন কাওসার। ঘটনার দিন ওই ক্লিনিকেই ছিলেন তিনি।

কাওসারের ভাই ইলিয়াস বলেন, আমি ভাইকে অনেক বার ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। আমরা জানতে পেরেছি আমার ভাই মারা গেছেন।

তিনি জানান, মা, ভাই, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ কাওসার থাকতেন চকবাজারে। আগুনের সময় ক্লিনিকের ভবনের গেট বন্ধ ছিল। খোলা থাকলে হয়তো তাকে খুঁজে পাওয়া যেত।

আরও পড়ুন:  পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি : মর্টার শেল ও ভারী গোলাবর্ষণ

চুপ করে বসে থাকবো না, পাল্টা হামলা চালাব: ইমরান খান

হামলার জবাব দিতে কতটুকু প্রস্তুত ভারতের সেনাবাহিনী?

ভারত-পাকিস্তান সিমান্ত রণসাজে সজ্জিত, ৬০০ ট্যাংক পাঠালো পাকিস্তান

আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ কাশ্মীরে, ভারতীয় বাহিনীর মেজর-সহ নিহত ৫

জাপানি নারীর ইসলাম গ্রহণের হৃদয়বিধারক ঘটনা ও পর্দার প্রতি সন্মান

ফেসবুকে লাইক দিন