গান্ধীজি বেঁচে থাকলে বাবরি মসজিদের জন্য অনশন করতেন: ভারতের সাবেক বিচারপতি

ইমান টোয়েন্টিফোর ডটকম:গান্ধীজি বেঁচে থাকলে বাবরি মসজিদের জন্য অনশন করতেন বলে মন্তব্য করলেন ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলী। বুধবার রানীরাসমনি রোডে দলিত সংখ্যালঘু উন্নয়ন পরিষদের এনআরসি সভায় তিনি বলেন, আজ যদি গান্ধীজি বেঁচে থাকতেন তাহলে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর অনশন শুরু করতেন। এখন সেই নেতা কোথায়?

অশোক গাঙ্গুলী এনআরসির সমালোচনা করে বলেন, প্রবহমানকাল ধরে দলিতরা নির্যাতিত। বর্তমান সরকারের সময় সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। বেকারত্ব, ক্ষুধা, চাকরি নিয়ে মানুষের আন্দোলনকে সরকার ভয় পায়। তাই এনআরসি করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

এদিন আন্তর্জাতিক সমাজ কর্মী তিস্তা শীতলাবাদ এনআরসি রোখার ডাক দেন। তিনি বলেন, যেকোন মূল্যে বাংলায় এনআরসি রুখতে হবে। অসমে বিজেপি সরকারের আমলে গোটা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রক্রিয়াকে সাম্প্রদায়িকতার মোড়কে পুরে দেয়া হয়েছে। এনআরসির মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে অস্ত্র করে মানুষের মধ্যে বিভাজনের এক কুৎসিত প্রয়াসের বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অসমে ধর্মীও ও ভাষিক সংখ্যালঘুরা দুর্ভোগের মধ্যে আছে। সেজন্য বিদেশি অপবাদে আত্মহত্যা করে মরতে হয় হিন্দু বাঙালিদেরও। মানবাধিকারের চরম অপমান এর থেকে বেশি আর কী হতে পারে? তাই ভারতবর্ষের মানুষকে এনআরসির চক্রান্ত রুখতেই হবে। বাঙালিকে বলতে হবে,আমরা এনআরসি চাইনা।

এদিন কংগ্রেসের সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য জানান, আগামী সংসদ অধিবেশনে অসমের এনআরসি ছুট মানুষের ভবিষ্যত কী হবে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জানতে চাওয়া হবে। তাছাড়া, রাজ্যসভায় ক্যাব পাশ করতে দেওয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।

অন্যান্যদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী, আমরা বাঙালির বকুল চন্দ্র, এমএমডিসির কেন্দ্রীয় সম্পাদক ডাঃ সনৎ নস্কর প্রমুখ। সভায় এনআরসিকে ‘ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র, টিডিএন বাংলা

ফেসবুকে লাইক দিন