খেলোয়াড়দের মতো চুল রাখা কি বৈধ?

খেলায়াড়দের দেখাদেখি অনেকেই মাথার চুলের বিভিন্ন স্টাইল অবলম্বন করেন। এ ধরণের স্টাইল করা মুসলমানদের জন্য বৈধ নয়। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, ইবনু উমার (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা‘আ করতে বারণ করেছেন। কাযা‘আ হলো শিশুদের মাথায় কিছু চুল অবশিষ্ট রেখে কিছু চুল কমিয়ে ফেলা। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৯৩, বুখারী, মুসলিম।

অন্য আরেক হাদীসে এসেছে, ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, একটি শিশুর মাথার কিছু অংশ কামানো আর কিছুটা অবশিষ্ট রাখা আছে। তিনি তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, হয় সবটুকু কামিয়ে ফেলো নতুবা সবটুকু রেখে দাও। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৯৫,মুসলিম, নাসায়ী, আহমাদ।

মাথার চুল রাখা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, আল-বারাআ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কারুকার্য খচিত লাল চাঁদর পরিহিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে সুন্দর কোনো বাবরি চুল ওয়ালাকে দেখিনি। মুহাম্মাদের বর্ণনায় রয়েছে, তাঁর বাবরি চুল কাঁধ পর্যন্ত ছিলো। শু‘বাহর বর্ণনায় রয়েছে, কানের লতি পর্যন্ত ছিলো। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৮৩, বুখারী, মুসলিম।

চুলের সিঁথি সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দিতো। আর মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হুকুম ছিলো না, সেক্ষেত্রে তিনি আহলে কিতাবের নিয়ম পালন করতে ভালবাসতেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর কপালের চুল লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দেন। অতঃপর আবার সিঁথি করেন। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৮৮,বুখারী, মুসলিম।

অন্য এক হাদীসে এসেছে, আয়িশাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার চুলের সিঁথি করতে চাইলে মাথার মাঝ বরাবর দু’ ভাগ করে সিঁথি করতাম এবং তাঁর দু’ চোখের মাঝখান থেকে সোজা কপালের দু’ দিকে চুল ছেড়ে দিতাম। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৮৯ ,সহীহ, আহমাদ, ইবনু মাজাহ।

চুল পরিপাটি করে রাখা সুন্নাত। আবূ হুরাইরাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মাথায় চুল আছে সে যেন এর যতœ নেয়। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৬৩

তবে চুলের অধিক জাঁকজমক প্রদর্শন করা নিষেধ। আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছে, তবে একদিন পরপর (আঁচড়ালে দোষ নেই)। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৫৯ তিরমিযী, নাসায়ী, আহমাদ।
পুরুষের চুলের গুচ্ছ সম্পর্কে

মুহাজিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হানী (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা হয়ে আগমন করেন, তখন তাঁর মাথার চুলে চারটি গুচ্ছ ছিলো। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৯১, সহীহ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ।

পরচুলা ব্যবহারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হুমাইদ ইবনু আব্দুর রাহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তার রাজত্বকালে হজ (হজ্জ) উপলক্ষে এক সমাবেশে মিম্বারে দাঁড়ালেন। তিনি তার দেহরক্ষী পুলিশের হাত থেকে এক গুচ্ছ কৃত্রিম চুল নিজ হাতে নিয়ে সবাইকে সম্বোধন করে বললেন, হে মদীনাবাসী! তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটা ব্যবহার করতে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, বানী ইসরাঈলের নারীরা এ কৃত্রিম চুল ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায় ধ্বংস হয়েছে। আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৬৭, বুখারী, মুসলিম।

ফেসবুকে লাইক দিন