খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সবচেয়ে বাজে নজির দেখিয়েছে সৌদি আরব: ট্রাম্প

ইমান২৪.কম: সৌদি আরব সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ‘সবচেয়ে বাজেভাবে ধামাচাপা’ দিতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের বিয়ের কাগজপত্র আনতে চলতি মাসের প্রথম দিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে গিয়েছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাসোগি। সৌদি গুপ্তচররা তাকে ওই কনসুলেটের ভেতরেই হত্যা করে বলে তুরস্কের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী সৌদি নাগরিকদের ভিসা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প কনসুলেটের ভেতর সাংবাদিককে মেরে ফেলায় মিত্র দেশ সৌদি আরবের কড়া সমালোচনা করেন।

এ ধরনের ঘটনা ‘কখনোই ঘটা উচিত ছিল না’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। “এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কিংবা ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না। এমনটা ঘটাই উচিত হয়নি,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কনসুলেটে খুনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না দাবি করা সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সোমবার এ নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। খাসোগির বিষয়টি সৌদি কর্মকর্তারা বাজেভাবে পরিচালনা করেছেন বলেও মত ট্রাম্পের। “বাজে ব্যাপার, এ ধরনের কিছু কখনোই ভাবিনি। কেউ কেউ একেবারেই জট পাকিয়ে ফেলেছে। তারা সবচেয়ে বাজেভাবে এটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছে,” হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানান ট্রাম্প। নিজেদের কনসুলেটের ভেতর হত্যাকাণ্ডের শিকার খাসোগিকে নিয়ে গত তিন সপ্তাহে সৌদি আরবের ভাষ্য কয়েকবারই বদলেছে। শুরুর দিকে খাসোগি ‘কনসুলেটে প্রবেশের অল্প সময়ের মধ্যে বেরিয়ে গেছেন’ এবং তার ‘নিখোঁজকাণ্ডে’ রিয়াদের সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করলেও দুই সপ্তাহ পর তুরস্কের তদন্তের মধ্যেই রাজপরিবারের সমালোচক সাংবাদিককে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। বছরখানেক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যায় মূল দায়ী কে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে তা স্পষ্ট করেননি।

তবে এ ঘটনায় সৌদি আরবের সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে যুক্তরাষ্ট্র চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কেবল তাদেরই নয়, যারা এ ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত তাদেরও চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাও খতিয়ে দেখছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। “এ শাস্তিই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ কথা হবে না। না প্রেসিডেন্ট, না আমি কেউই এ ঘটনায় খুশি নই,” বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন