খালেদা-তারেককে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানোর আশঙ্কা মির্জা ফখরুলের

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। আজ (রোববার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।

‘বিএনপি গঠনতন্ত্রের সাত ধারা পরিবর্তন করল কেন?’ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ‘উদ্ভট ও অন্তসারশূন্য’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মঈন-ফখরুদ্দীন কায়দায় বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহারের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সরকার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংক্রান্ত কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য মাঠে নেমেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে সাত ধারা বাতিলসহ গঠনতন্ত্রে সর্বশেষ সংশোধন করা হয়। যা পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। এখন বিলুপ্ত সাত ধারার অনুরূপ একটি ধারা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংযোজন করার অপচেষ্টা চলছে। এরপর ওই ধারার দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানোর পদক্ষেপ নেয়া যায়।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের সুচিকিৎসা ও মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তিনি হাঁটতে পারছেন না। তার পরিবারের সদস্যরা শনিবার কারাগারে গেলেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। আমরা বার বার তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি করছি। কিন্তু সরকার আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে তার অসুস্থতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যে তিনি আর সেখান থেকে ফিরে না আসতে পারেন। আল্লাহ না করুক, খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতি যদি হুমকি সৃষ্টি হয়, তার সমস্ত দায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে নিতে হবে।

এ সময়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা না দেয়ার প্রতিবাদে আগামী ২০ জুলাই নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।

ফেসবুকে লাইক দিন