খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে তোপের মুখে ফখরুল-মওদুদরা

ইমান২৪.কম: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ইসলাম আলমগীরসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

বুধবার(২০ ফেব্রয়ারি) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় চলাকালীন সময়ে বিএনপির নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ ও হট্টগোল করতে দেখা যায়। আলোচনার সভার শেষের দিকে দর্শক সারিতে বসা বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে কথা শুনতে চান।

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। মওদুদ আহমদের কথা চলাকালে দর্শক সারি থেকে এক নেতা বলে উঠেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলেন, কবে এবং কীভাবে মুক্তি পাবেন? আজকে হল রুম খালি কেন?’

প্রথম অবস্থায় মওদুদ তা শুনেতে পাননি, তিন জানতে চাইলে দর্শক সারি থেকে আবারও একই কথা জানতে চাওয়া হয় এবং অনেকেই এই নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘হবে। একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে।’ পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।

একমাত্র পথ হচ্ছে আন্দোলন। সেই জন্যই আমাদের সুপরিকল্পিত আন্দোলন করতে হবে। সেই ভাবেই আমাদের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের একমাত্র এজেন্ডা হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি।’ মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘২১ শের চেতনা সম্পূর্ণভাবে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে বর্তমান অবৈধ সরকার।

এই সরকার মুখে যতই বলুক তারা কোনো দিনই বিরোধীদল চায় না। বারবার তারাই দেশে স্বৈরাচারী সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে ‘ তিনি বলেন, ‘কেউ এই সরকারকে আর বিশ্বাস করেনা। জনগন ভাল করেই জানে দেশে কোনো নির্বাচন হয় নাই। ভোট চুরি করে তারা নির্বাচনের নামে দুর্বৃত্তায়ন করে ক্ষমতায় এসেছে।’

ভাষা আন্দোলনে নিজের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একুশের চেতনা ধুলিসাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তারা কখনোই চায় না দেশে কোনো বিরোধীদল থাকুক। দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে এটা কেউ বিশ্বাস করে না।’ এরপর সভাপতিত্বের বক্তব্য নিয়ে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি শুরু করলে এক পর্যায়ে এবার দর্শক সারি থেকে আওয়াজ আসে, ‘বিএনপির কমিটি ভেঙে দেন। আজকে হল খালি কেন?’ এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কর্মসূচি আসবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে।’ এরপর মির্জা ফখরুল ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘দাঁড়ান, হলে বসে চিৎকার করলে হবে না।’ পরে পস্থিস্থিতি সামলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা কেন ভাবছেন ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা ব্যর্থ হননি। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করতে ১০ বছর ধরে নির্যানতন চালাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘একুশের চেতনা ধারন করে আমাদেরকে সামনে দিকে এগিয়ে যেগে হবে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেই লড়েইয়ে আমরা বিজয়ী হবোই।’ বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনার নিজের দুর্বল ভাবেন কেন? মনোবল হারাবেন না।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো বলেননি মনোবল হারাতে। তিনি বলেছেন, সাহসের সঙ্গে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে। আমাদেরকে অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সেই জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’ কারাগারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ, অত্যন্ত অসুস্থ। মওদুদ সাহেব বলেছেন।

আমিও আজকে গিয়েছিলাম জেলগেট থেকে ফিরে আসছি। দেখা করতে পারিনি।’ এসময় তিনি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দিয়ে চিকিৎসার দাবি জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি এত বড় একটি রাজনৈতিক দল, সারাদেশে সংগঠন আছে, কর্মী-সমর্থক আছে তবু কেন আমাদের নেত্রীর মুক্তি হচ্ছে না?’ তিনি বলেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামি ও আন্দোলন করতে পারি তাহলে অবশ্যই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ভারতকে নিঃশর্ত-সীমাহীন সহায়তা করবে ইসরায়েল

হামলার মহড়া দিতে গিয়ে ভারতের দুই বিমান ধংস

ফেসবুকে লাইক দিন