খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট, কিন্তু কারামুক্তি নয় এখনই

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি বিরোধী একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কারাগারে রয়েছেন বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ বুধবার সকালে এই রায় দেন।

খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আপিল করেছিল। দুটি আপিলই খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রইল।

 

তবে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখা হলেও এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেননা তিনি। কারণ তাকে কুমিল্লার নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছিলো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর থেকেই তিনি ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি করে গত ১২ই মার্চ হাইকোর্ট তাকে চারমাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

কিন্তু ওই জামিন স্থগিত চেয়ে পৃথক পৃথক দুইটি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন। আবেদনের শুনানির পর ১৪ই মার্চ আপিল বিভাগ জামিন স্থগিত করে দেন। সেইসাথে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন।

তারপর জামিন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

প্রায় ১০ বছর আগে, ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় মামলাটি করেছিলো দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দেয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান (বর্তমানে লন্ডনে) এবং সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন। মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ রয়েছেন কারাগারে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, এই ঘটনায় খালেদা জিয়া জড়িত নন, এবং সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি, কারণ এসব টাকা এখনো ব্যাংকের হিসাবেই জমা রয়েছে।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ”তার বিরুদ্ধে করা সবগুলো মামলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা, যার কোনোটির আইনি ভিত্তি নেই। এই মামলাটিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটিকে বানোয়াট বলেও তিনি বর্ণনা করেন।”

তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি করেছেন, আদালতে তারা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন।

আরও খবরঃ ৫ শতাধিক বিষধর সাপের বাচ্চা নিয়ে স্কুলে আতঙ্ক

ফেসবুকে লাইক দিন