খতমে বুখারি অনুষ্ঠানের ছবিতে প্রধান অতিথি নারী! ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়

খতমে বুখারির একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। ছবিটিতে দেখা যায়, একজন নারী ও হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি অতিথি হিসেবে রয়েছেন। পাশে রয়েছে শোলাকিয়ার ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। জানা যায়, অতিথির আসনে বসা যাদের নিয়ে আপত্তি করা হচ্ছে তারা সাধারণ অতিথি নন মুন্সিগঞ্জের দুটি আসনের সংসদ সদস্য।

তাদের একজন অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের এমপি এবং আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক। অন্যজন অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি মুন্সিগঞ্জ ২ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও হুইপ। মাদরাসার পরিচালক মুফতি সরওয়ার এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবেই তাদের অতিথি করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ছবিটি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মন্তব্যের সারসংক্ষেপ এমন- কওমি মাদরাসা শত বছর ধরে যে ঐহিত্য নিয়ে চলমান সে ধারায় অনেকটা আচমকা আঘাত এটি। অনেকে বলছেন, খতমে বুখারিকে অতিমাত্রায় অনুষ্ঠানিকরণের ফল এটি। যা মাদরাসার স্বকীয়তাকে ধ্বংস করছে। তাদের মতে, একটা ইসলামি অনুষ্ঠান যেখানে স্টেজে রয়েছেন উলামায়ে কেরাম সেখানে একজন হিন্দু ব্যক্তি ও নারীর অতিথি হওয়াটা বেমানান। তবে কেউ কেউ ভিন্নমতও ব্যক্ত করছেন। তাদের যুক্তি- সমাজের সঙ্গে না মিশে উল্টো স্রোতে চলা মুশকিল। এর আগেও চট্টগ্রামের একটি মাদরাসা এবং একটি ওয়াজের মাহফিলে নারী অতিথি দেখা গিয়েছিল।

এই বিষয় নিয়ে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, এটা নিয়ে সমালোচনার কী আছে। তারা জনপ্রতিনিধি, যে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার অধিকার রাখে। আর এ ধরনের প্রোগ্রামে তো বিধর্মীদের বেশি আশা উচিত যা তাদের হেদায়াতের উছিলা হতে পারে। মাদরাসা কোনো ইবাদতগাহ নয়। এটা একটা শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে আসতে অজু করতে হয় না, তাহিয়াতুল অজুও পড়তে হয় না। মাদরাসায় কী হয় দেখার জন্য অন্যরা আসতেই পারে। তিনি পাশের দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের দেশে এসব নিয়ে এত প্রতিক্রিয়া হয় কিন্তু ভারতে এমন অনুষ্ঠান অহরহই দেখা যাবে। বরং তারা ভারতীয় আলেমরা অন্য ধর্মের লোকদের অতিথি করে এনে নিজেদের কার্যক্রম দেখান।

নারীর পর্দার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, এ সমস্যা তো নতুন নয়। গত ১০০ বছর ধরে আমরা সমস্যায় ভুগছি এবং আলোচনা করছি। কিন্তু এ সমস্যা নিয়ে আপনি যদি বসে থাকেন তাহলে তো ঘরে আবদ্ধ হয়ে যাবেন। আপনি বাজারে যান সেখানে খোলামেলা নারী, রাস্তায় বের হন সেখানেও নারী। অথচ ইসলামি অনুষ্ঠান বলে নারী এমপি যেভাবে মাথা ঢেকে এসেছেন সেটা নিয়ে তো আপত্তি থাকার কথা না। তাছাড়া চার ইমামের মধ্যে আবু হানিফা রহ. ছাড়া অন্যদের মতে চেহারা পর্দার অন্তর্ভূক্ত নয়।

আরো পড়ুন>> আলহামদুলিল্লাহ, এবার মুসলমানের জন্য নামাজের ব্যাবস্থা করলো রাশিয়ার ক্রিমিয়া এয়ারপোর্ট

ফেসবুকে লাইক দিন