মাইকে ঘোষণা দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অর্ধ-শতাধিক

ইমান২৪.কম: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জলাশয়ে বাঁধ দেওয়ার জেরে মাইকিং করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। দফায় দফায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যানসহ অর্ধ-শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) উপজেলার কানিভাঙ্গা নামক একটি পঞ্চায়েতী জলাশয়ে কামালখানী ও মজলিশপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কানিভাঙ্গা নামে একটি পঞ্চায়েতী জলাশয়ে কামালখানী গ্রামের লোকজন বাঁধ দেয়। শুক্রবার মজলিশপুর গ্রামের লোকজন ওই বাঁধ ভেঙে ফেলে। বিষয়টি কামালখানী গ্রামের লোকজন মজলিশপুর গ্রামের লোকজনের নিকট জিজ্ঞাসা করলে সঠিক জবাব পায়নি।

তখন মজলিশপুর গ্রামের লোকজনকে বাঁধ এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষ। এতে মজলিশপুর গ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের লোকজনকে ঘটনাস্থলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাঁধের নিকট যাওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। এ খবর পেয়ে কামালখানী গ্রামের লোকজনও মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরের উপর ঝাপিয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ মো. সেলিম ও জনপ্রতিনিধসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে তারা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় পুলিশ অন্তত ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদসহ অর্ধ-শতাধিক লোক আহত হন।

তাদের মধ্যে মজলিশপুর গ্রামের নজির মিয়াকে (২৫) গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহতরা হলেন-আবিদুর, লাল মিয়া, মনছুর, অলি হোসেন, জমির, অপু সরকার, নিপু, সাজিদ, নূরুল আমীন, সাজলু, ফজলু, জিলু, নাজমুল, হারুন, জসিম ও আনসার মিয়া। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে শান্ত করেছে। সব কিছু এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে।

ফেসবুকে লাইক দিন