🌿কোরআনের আলোকে “ঈমান অবিচল বিশ্বাসের নাম”🌿

ঈমান তো অবিচল ও দৃঢ় বিশ্বাসের নাম। সংশয় ও দোদুল্যমানতার মিশ্রণও এখানে হতে পারে না। সংশয়ই যদি থাকে তবে তা আকীদা কীভাবে হয়?
বিশ্বাস যদি দৃঢ়ই না হয় তবে তা ঈমান ঈমান কীভাবে হয়?

কুরআন মাজীদে ইরশাদ-

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ

তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ। -(আল-হুজরাতঃ১৫)

★তারা মু’মিন বা বিশ্বাসী নয়, যারা কেবল মুখেই ইসলাম প্রকাশ করে এবং উল্লিখিত আমলগুলোর প্রতি কোন যত্নই নেয় না।

সংশয় ও দোদুল্যমানতা কাফির ও মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য, মুমিনের নয়।

ইরশাদ হয়েছে,

لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِِ أَنْ يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ

“আল্লাহ ও রোজ কিয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” -(আত তাওবাঃ৪৪)

★এখানে খাঁটি মু’মিনদের আচরণ বর্ণনা করা হয়েছে। বরং তাদের অভ্যাসই তো এই যে, তারা বড়ই উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে অগ্রণী হয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করে থাকে।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-
إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ

আপনার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে না এবং যাদের অন্তর সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, তারা তাদের সংশয়ের কারণে দ্বিধাগ্রস্ত। -(আত তাওবাঃ৪৫)

★এখানে সেই মুনাফিক্বদের কথা বর্ণনা হচ্ছে, যারা ছোট্ট ধরনের বাহানা বের করে রসূলের সাথে জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল। তাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহ এবং আখেরাতের উপর বিশ্বাস রাখে না। আর তার অর্থ এই যে, সেই ঈমানহীনতাই তাদেরদেরকে জিহাদে না যেতে বাধ্য করেছিল। পক্ষান্তরে যদি ঈমান তাদের অন্তরে সুদৃঢ় হত, তাহলে তারা না জিহাদ থেকে গা বাঁচাতো, আর না-ই তাদের মনে কোন প্রকার সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি হতো।

এতএব ঈমান অবিচল রাখতে হবে কিভাবে? জবাব হলো-

“হে রাসুল! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে। যাতে তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান আন এবং রাসুলকে শক্তি যোগাও, তাকে সম্মান কর। আর সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।” -(সুরা আল ফাতাহঃ৮-৯)

আল্লাহ পাক আমাদের সকলের ঈমানকে অবিচল বিশ্বাসের ওপর রাখার তৌফিক দান করুক।
“””””””””””””আমীন“”””””””””””””

ফেসবুকে লাইক দিন