কা শ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা জানালো জাতিসংঘ

ইমান২৪.কম: কাশ্মীরে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। এতে মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি। বিবিসি জানায়, অফিশিয়াল টুইটারে

কাশ্মীর বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিবের একজন মুখপাত্র। এতে ভারত নিয়ন্ত্রিত রাজ্যটিতে টেলিযোগাযোগ বন্ধ এবং রাজনৈতিক নেতাদের জোরপূর্বক আটকের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত সোমবার

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার। রাজ্যটির জন্য সংরক্ষিত সংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার আগে অঞ্চলটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়। আগের দিন থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক,

ইন্টারনেট, ক্যাবল চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপের মধ্যেও সরকারের এ বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছে মানুষ। এতে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর

অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে অবরুদ্ধ পরিস্থিত সৃষ্টি, রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্বিচারে আটক এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ফলে

সেখানে বিক্ষোভ ঘটছে, যাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নতুন পর্যায়’ বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের ওই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, “ওই অঞ্চল থেকে প্রায় কোনো তথ্যই বাইরে আসছে না। এটাই যথেষ্ট উদ্বেগের। আমরা এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছি।”

আরো পড়ুন>> তারা এই বলে কান্নাকাটি করছেন যে, আমাদের ধোঁকা দেয়া হয়েছে। নিজেদের মজলুম প্রমাণিত করার জন্য তারা চোখের অশ্রু ঝরাচ্ছেন। কিন্তু এই অশ্রুর পেছনে ধোঁকার

এক দীর্ঘ বহর লুকিয়ে আছে। আর সেই ধোঁকা লোক-দেখানো অশ্রু ঝরানো ব্যক্তিরা স্বজাতির সঙ্গে করেছেন। তারা হলেন ফারুক আবদুল্লাহ ও তার ছেলে ওমর আবদুল্লাহ। তারা এই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন যে, কাশ্মিরীদের

সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য হলো, বেশির ভাগ কাশ্মিরী কখনও ৩৭০ ধারাকে স্বীকারই করেনি। কারণ এই দফার দ্বারা ফারুক আবদুল্লাহর বাবা শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ অধিকৃত কাশ্মীর আর ভারতের মধ্যে

একটি ‘অবৈধ’ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নিজের শাসন পাকাপোক্ত করা। ৩৭০ ধারা মূলত ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু এবং শেখ আবদুল্লাহর মধ্যে একটি চুক্তি। শেখ

আবদুল্লাহ কাশ্মিরীদের সন্তুষ্ট রাখতে ৩৫ ধারাকেও আইনে যুক্ত করান এবং বাইরের লোকদের জন্য কাশ্মীরে জমি কেনার পথ বন্ধ করেন। ৩৭০ ও ৩৫ ধারার বিলুপ্তি মূলত ভারতের পক্ষ থেকে ওই কাশ্মীরিদের জন্য

ধোঁকা যারা ভারতের আশ্বাসের ওপর ভরসা করে স্বজাতির সঙ্গে গাদ্দারি করেছিলেন। শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ স্বজাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি না করতে

বলেছিলেন। কিন্তু তিনি কায়েদে আজমের কথা শুনেননি। তিনি বরং নেহেরুর সঙ্গে মিলে কাশ্মীরিদের ভারতের গোলাম বানিয়ে রাখেন। ইতিহাস কায়েদে আজমকে বারবার সত্য এবং শেখ আবদুল্লাহকে মিথ্যা প্রমাণ

করেছে। আজ যখন ভারত সরকার নিজেদের মিথ্যা ও ধোঁকাবাজ প্রমাণ করে দিলো তখন শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং তার পরিবারের আসল চরিত্র তুলে ধরা জরুরি। কারণ এই পরিবার শুধু কাশ্মীরিদেরই নয়

পাকিস্তানকেও ধোঁকা দিয়েছে। শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ তার আত্মজীবনীতে আল্লামা ইকবালের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু কায়েদে আজমের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা এড়িয়ে গেছেন। এটি একটি

ঐতিহাসিক বাস্তবতা যে, কাশ্মীরিদের বর্তমান যে স্বাধীনতা আন্দোলন এর নিয়মতান্ত্রিক সূচনা করেছিলেন আল্লামা ইকবাল ১৯৩১ সালে। ওই বছরের ১৩ জুলাই শ্রীনগরে মুসলমানদের শহীদ হওয়ার প্রতিবাদে পরদিন ১৪

আগস্ট যে সভা অনুষ্ঠিত হয় সেটা ছিল আল্লামা ইকবালের নেতৃত্ব। সেই সভায় তিনি কাশ্মীরিদের স্বাধীনতার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৩২ সালে অল জম্মু-কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়। যারা মূল উদ্দেশ্য ছিল শাসক গোষ্ঠীর মুখোশ উন্মোচন করে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।

ইমান২৪/এ/আর

ফেসবুকে লাইক দিন