কাদের মির্জার ডাকা হরতালে অচল কোম্পানীগঞ্জ

ইমান২৪.কম: বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ডাকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে হরতাল চলছে। ফেনী ও নোয়াখালীর দুই সাংসদের ‘অপরাজনীতি’ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবিতে ডাকা এই হরতাল বেলা দুইটা পর্যন্ত চলবে।

হরতালের কারণে যান চলাচল বন্ধ আছে। সকাল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা রাস্তায় মিছিল করছে। তারা কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় কোনো যানবাহন প্রবেশ করছে দিচ্ছে না। হরতালে দোকানপাট, ব্যাংক-বীমা-অফিস বন্ধ রয়েছে।

রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। হরতালে কোম্পানীগঞ্জ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত (সকাল ১০ টায়) কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া দাবি না মানা পর্যন্ত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতিদিন থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণাও দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা।

এর মধ্যে যদি অন্য কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করা হয়, তাহলে লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।

কাদের মির্জার দাবিগুলো হলো ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর ‘অপরাজনীতি’ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক, পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল হককে প্রত্যাহার।

এ ছাড়া চরকাঁকড়ার আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম ওরফে সবুজের গ্রেপ্তার ও ১১ ফেব্রুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা ও চট্টগ্রামে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার বিচার দাবি করেন কাদের মির্জা।

এর আগে এসব দাবিতে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন কাদের মির্জা। রাতভর তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন।

রাতের একপর্যায়ে তিনি বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোম্পানীগঞ্জে হরতালের ডাক দেন। পরে গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি অবস্থান কর্মসূচি ও লাগাতার হরতাল ‘সাময়িকভাবে’ প্রত্যাহার করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন