করোনা আতঙ্কে মৃতকে ছুঁল না পরিবার, সৎকার করলেন একদল মুসলিম যুবক

ইমান২৪.কম: যতই দিন যাচ্ছে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ভারতের করোনা পরিস্থিতি। ইতোমধ্যে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। প্রতিদিনের সংক্রমণ সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ লাখের গণ্ডি। শ্মশানেও জায়গা সংকুলান হচ্ছে না মৃতদেহ সৎকারে। এমতাবস্থায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়লেন ভারতের বিহারের গয়া জেলার একদল মুসলিম যুবক।

করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, এই ভয়ে এক নারীর মৃতদেহ ছুঁতে চায়নি পরিবারের লোক। শেষপর্যন্ত রীতি মেনে ওই হিন্দু নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন মুসলিম যুবকরাই। ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে তাদের সেই কাজ। অনেকেই প্রশংসাও করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের গয়া জেলার ইমামগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের তেতারিয়া গ্রামে।

সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রভাবতী দেবী নামে ৫৮ বছরের ওই নারী। তাকে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আরটি-পিসিআর টেস্টও করা হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় ওই নারীর। করোনাতেই মারা গিয়েছেন তিনি, এই ভয়ে ওই নারীর স্বামী এবং দুই ছেলে মরদেহ নিতে রাজি হননি।

ফলে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতেই পড়েছিল মৃতদেহ। শেষপর্যন্ত খবর পেয়ে ওই নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এগিয়ে আসেন মুহাম্মদ রফিক, শারিক, কালামি, বারিক, লাদ্দানসহ এলাকারই বেশ কয়েকজন মুসলিম যুবক। এই প্রসঙ্গে সমাজকর্মী মুহাম্মদ শারিক জানান, ‘চিকিৎসা চলাকালীনই ওই নারীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। এরপরই চিকিৎসকরা তার করোনা পরীক্ষা করতে বলেন।

রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও চিকিৎসা চলাকালীনই মারা যান তিনি।’ এদিকে, করোনায় মৃত্যু হয়েছে প্রভাবতী দেবীর, এই ভয়ে তার স্বামী বা দুই ছেলে কেউই মৃতদেহ নিতে রাজি হননি। ফলে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গাড়িতেই পড়েছিল তার মৃতদেহ। শেষপর্যন্ত আমরা খবর পেয়ে সেখানে যাই, পরিবারের লোকজনকে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বলি। কিন্তু তবুও তারা দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন।

শেষপর্যন্ত আমরা কয়েকজন গাড়ি থেকে মৃতদেহটি নামাই। এরপর বাঁশ দিয়ে মড়া নিয়ে যাওয়ার খাট তৈরি করে শবদেহটি নিয়ে শ্মশানের উদ্দেশে রওনা হই। তখন অবশ্য পরিবারের অন্যরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আমাদের সঙ্গ দেন।’ এই প্রসঙ্গে মৃতের এক ছেলে বলেন, ‘এলাকার মুসলিম যুবকরা আমার মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে সাহায্য করেন। ওরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ গড়েছে। আমাদের পরিবার ওদের প্রত্যেকের কাছে ঋণী।’

ফেসবুকে লাইক দিন