করোনাকালে বসানো হাত ধোয়ার বেসিনগুলোর বেহাল দশা

ইমান২৪.কম: কোথাও হাত ধোয়ার বেসিন আছে পানি নেই, আবার কোথাও পানি আছে কিন্তু পানির কল বা বেসিন কিছুই নেই। করোনা প্রতিরোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এমন ব্যবস্থা করলেও এসবের এখন বেহাল দশা।

করপোরেশনের এমন শিথিলতা করোনাকে উস্কে দেবার শামিল বলছেন নগরবিদরা। প্রজেক্টটি সফল হয়নি স্বীকার করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের তাগিত জনসচেতনতা বাড়ানোর। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাসহ বেশকিছু বেসরকারি সংস্থাও করোনার শুরুর দিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছিলো।

শুরুটা আড়ম্বরপূর্ণ হলেও মাস তিনেকের মাথায় অবহেলা আর দেখভালের অভাবে ভেস্তে যায় এসব উদ্যোগ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি স্পটে হাত ধোয়ার বেসিন ও সাবানের ব্যবস্থা করেছিল। মাস তিনেকের মাথায় সরিয়ে নিয়েছে এসব বেসিন।

ফলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও হাত পরিস্কার করতে পারছেন না নগরবাসী। নগরবাসীরা বলেন, ‘পাইপ নাই কিছু নাই। মানুষ এসে ফিরে যায়। পানি না থাকলে হাত ধুবে কোথা থেকে। বলতে গেলে উলটা এসে ঝাড়ি মারে। কোথাও বেসিন আছে সাবান নেই আবার কোথাও সাবান আছে পানি নেই।

বেশ কিছুদিন হল এখানে কল বন্ধ, পরিষ্কার পানি নাই।’ চুরি হয়ে যাওয়া ও মানুষ ব্যবহার করে না এমন ঠুনকো অজুহাতে রাস্তা থেকে বেসিন সরিয়ে নিয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন।

আর দক্ষিণ সিটির মেয়র বলছেন, বিষয়টি আগের মেয়রের সময় নেয়া হলেও তা ফলপ্রসু হয়নি। দক্ষিণ সিটি করপোরশনের মেয়র তাপস বলেন, ‘হাত ধোয়ার বিষয়টি আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগে ছিল।

এনজিও এর মাধ্যমে এটা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সেটার ফলপ্রসূ কোন কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করিনি।’ সরকারের এমন উদাসীনতায় জনগণ করোনা বিষয়ে অসচেতন হচ্ছে বলে মন্তব্য নগরবিদদের।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, জনগণ এই বিষয়গুলোকে অনীহা প্রকাশ করছে কারণ সরকারের এই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে আবার সে বিষয়ে কোন ধরণের মনোযোগ না দেওয়ায় করোনা সরকারিভাবেই চলে গেছে বলে ধারণা।’

ফেসবুকে লাইক দিন