কবর জগত: শাস্তি থেকে বাচার উপায়

প্রত্যেই জগতেই কষ্ট দূর হয়ে শান্তি বিরাজ করুক- তা প্রতি মানুষই চায় ৷
ইহজগতে মানুষ শান্তির জন্য কত উপাই না অবলম্বন করে!

আমাদের প্রত্যেকেরই মৃত্যু চির সত্য ৷ মৃত্যুর পর যেখানে থাকবো, তা হলো আমাদের কবর জগত বা বরযখ জগত ৷ সে জগতে যাবতীয় কষ্ট থেকে বেচে থাকার জন্য
আল্লাহর রাসূলের বিভিন্ন হাদীস থেকে কয়েকটি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো ৷

₹ প্রতিরাতে সুরাহ মুলক তিলায়াত করা (কুরআন দেখে দেখে বা মুখস্ত যে কোন ভাবেই হোক) ৷

রাসূল সাঃ বলেন : “যে ব্যাক্তি প্রত্যেক রাতে তাবারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সুরাহ মূলক) পাঠ করবে ৷ মহিয়ান আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন ৷ সাহাবাহ কিরাম বলেন: রাসুলুল্লাহ সাঃ এর যুগে আমরা এ সূরাহটিকে আল-মানি’আহ বলতাম ।

অর্থাৎ আমরা একে “কবরের আযাব থেকে প্রতিরোধকারী ” হিসেবে নামকরণ করেছিলাম । সূরাহ মূলক মহান আল্লাহর কিতাবের এমন একটি সূরাহ, যে ব্যাক্তি এটি প্রতি রাতেই পাঠ করে সে অধিক করলো এবং অতি উত্তম কাজ করলো।”
(নাসায়ী, সহীহ আত- তারগীব)

₹ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা ৷

“আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন:
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা- আয়াত ২৫৫) পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে। (নাসায়ী)

₹ যিকির বেশি বেশি পাঠ করা ৷

“জাবির রাঃ হতে নবী সাঃ সূত্রে বর্ণিত, “মহান আল্লাহর যিকিরের চাইতে অন্য কোন আমল কবরের আযাব থেকে অধিক নাজাতকারী নেই । জিজ্ঞেস করা হল , আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি ? তিনি সাঃ বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে কেউ এরূপ বীরত্তের সাথে লড়াই করে যে , তরবারী চালাতে চালাতে এক পর্যায়ে তা ভেঙ্গে যায় তার কথা ভিন্ন।”
(ত্বাবারানী, সহীহ আত- তারগীব)

₹ আল্লাহর পথে বেশি বেশি দান করা ৷

“উকবা ইবনু আমের রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাঃ বলেছেন, “নিশ্চয়ই দান কবরের শাস্তিকে মিটিয়ে দেয় এবং কিয়ামতের দিন মুমিন তার দানের ছায়াতলে ছায়া গ্রহণ করবে”।
(হাদীসটির সনদ সহীহ )

এই এক হাদিসেই দানের ২টি বিশাল ফযিলতের কথা বলা হয়েছে ৷
১- কবরের শাস্তিকে মাফ করে দেওয়া
২- কিয়ামতের দিন বিশেষ ছায়াতলে স্থান পাওয়া।

₹ প্রশাব থেকে ভালো করে পবিত্র হওয়া ৷

অর্থাৎ প্রশাবের ছিটা যেন শরীরে না লাগে।
রাসূল সাঃ বলেন : অধিকাংশ কবরের আজাব প্রসাবের কারণে হয়।
(সহিহুল জামে)

সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান হতে হবে। আবার অতিরিক্ত সাবধানতার নামে প্রসাব শেষে মানুষের সামনে দিয়ে কুলুখ লাগিয়ে হেটে বেড়ানো তা খুব দৃষ্টিকটু ব্যাপার ৷ এভাবে কুলুখ ব্যবহার না করা উচিৎ ।

₹ জুম্মার দিনে বা রাতে মৃত্যুবরণ ৷

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাঃ বলেন, রাসুল সাঃ বলেছেন: কোন মুসলমান যদি জুম’আর দিনে অথবা জুম’আর রাতে মারা যায়, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করবেন ।
(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস সহীহ)

সম্পাদকঃ মুফতি শহীদুল্লাহ নাজীব আল-হাবিবী

আরও পরুনঃ মাহে রমজানের রোজা আমাকে নাস্তিক থেকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসে

ফেসবুকে লাইক দিন