কঠোর লকডাউন: স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি আটকে রাখল পুলিশ

ইমান২৪.কম: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারহানা কবিরের গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। সোমবার (৫ জুলাই) সকালে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. ফারহানা কবির বলেন, ‘আজ সকালে আমি আমার সরকারি গাড়ি নিয়ে করোনাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বের হই। ফোর্ডনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার পথে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আমার গাড়িটি আটকে দেয়। আমি আমার পরিচয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করলেও তারা গাড়িটি আটকে রাখে।

পুলিশ সদস্যরা বলেছে, “স্যার অনুমতি দিলে আপনার গাড়ি ছেড়ে দেবো”। তখন আমি তাদের কাছে তাদের স্যারের নাম-পদবি জানতে চাই। তারা বলেন, “স্যারের নাম এসআই শহীদুল আলম।” পরে আমার সঙ্গে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক গিয়ে ওই এসআইকে বলার পরেও তিনি আমাদের যেতে দিচ্ছিলেন না। প্রায় ৩০ মিনিটি আমাদের গাড়ি আটকে রাখা হয়।’

‘সেসময় আশপাশে অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যাওয়ায় আমি খুবই অপমানিত বোধ করছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোনে বিষয়টি জানানোর পর আমার গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সরকারি চিকিৎসক হয়ে সরকারি কাজে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে পুলিশের এমন হয়রানিমূলক আচরণ কাম্য নয়। আমি বিষয়টি সিভিল সার্জনকেও জানিয়েছি’, বলেন তিনি।

সিংগাইরের ইউএনও রুনা লায়লা বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারহানা কবির আমাকে ফোন করে তার গাড়ি আটকে রাখার বিষয়টি জানালে আমি তাৎক্ষণিক কল করে কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেই। আধঘণ্টা আটকা থাকার পর ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।’ ‘ইতোমধ্যে ওই এসআইকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাকে জানিয়েছেন’, বলেন ইউএনও।

এ বিষয়ে এসআই শহীদুল আলম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তায় বাঁশ ফেলে তল্লাশি করা হচ্ছিল। সেসময় ওই চিকিৎসকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।’ এসপি রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ রোধে সবাই একযোগে কাজ করছি। চিকিৎসকের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এটার সমাধান হয়েছে।’

ফেসবুকে লাইক দিন