ওয়াজ-মাহফিলে রাজনৈতিক আলোচনা করলে প্রতিহতের নির্দেশ ছাত্রলীগ সভাপতির

ইমান২৪.কম: ওয়াজ-মাহফিলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি বা যে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা করলে তা প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়৷

রবিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ নির্দেশ দেন৷ ছাত্রলীগ সভাপতি এসময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘তোরা দিনের বেলা আসিস, তোদের ঈমানি শক্তি কত দেখবো।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ সব সময় শান্তিতে বিশ্বাস করে। তোদের মতো কুলাঙ্গারদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ বেয়াদব হবে। ভাস্কর্যবিরোধীতাকারীদের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করার জন্য সরকারসহ গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ জানান জয়।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আজকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে, তাদের আর এক চুল ছাড় দেবেন না৷ প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লায় যারা ওয়াজ মাহফিলের নাম করে, টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে, নবীজীর ঠোঁট নাড়ানো দেখিয়ে নবীজীকে অবমাননা করে, সেই মামুনুল হকদের প্রতিহত করবেন।

তারা ওয়াজ মাহফিলে বসে যদি কোনও রাজনৈতিক আলোচনা করে, যদি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনও কথা বলে, আপনারা ওই ওয়াজ মাহফিল প্রতিহত করবেন। ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হলো, যেখানে ওয়াজ-মাহফিল হবে, খবর পেলে আগে থেকে ওই জায়গায় অবস্থান নেবেন৷’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘হুজুরদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে, আপনাদের আমরা সম্মান করি৷ কিন্তু জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার পেছনে আপনাদের মদদ আছে৷ আপনারা সেই শ্রদ্ধার জায়গায় আঘাত হেনেছেন৷ মামুনুল হকরা জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছে৷’

এ সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় খোঁজ-খবর নিয়ে জামাত-শিবির ও মৌলবাদীদের পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন৷ ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় দেশের যেকোনো ওয়াজ মাহফিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনেক ধৈর্য ধরেছি, আর না। এখন আপনাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায় তাদের প্রতিহত করতে হবে।

লেখক ভট্টাচার্য আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবেন না। যদি কেউ বলেন, জাতির জনকের অবমাননা করেন, তাহলে সেই দেহ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারবেন না। তাদের ঠিকানা হবে কারাগারে বা ফাঁসির কাষ্ঠে। সমাবেশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় যা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ফেসবুকে লাইক দিন