ওমানে হটাৎ নজিরবিহীন বিক্ষোভ

ইমান২৪.কম: উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ওমানে কর্মী ছাটাই ও দুর্বল অর্থনীতির অভিযোগে কয়েকটি শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ ওমানিদের পৃথক পৃথক বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

তেল, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল সমৃদ্ধ দেশটিতে অর্থনৈতিক কারণে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অত্যন্ত নজিরবিহীন ঘটনায় ওমান সরকার প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করলে বিভিন্ন জায়গায় তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ ওমানিরা এবং সংঘর্ষ রোধে তাদের উপর পুলিশের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

সোমবার (২৪ মে) নজিরবিহীন ঘটনা আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হওয়া বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের গাড়ি বহর সোহার সিটিতে কয়েক ডজন বিক্ষুব্ধ ওমানিদের পিছন থেকে ধাওয়া করছে।

রাজধানী মাস্কটের বিক্ষোভ চিত্রে দেখা যায়, সরকারি লেবার অফিসের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভের কাছেই সুসজ্জিত এবং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে একদল পুলিশ। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ ওমানিরা পালাচ্ছে। আবার অনেককে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তাছাড়া সোশ্যালিস্টদের তথ্যমতে, ওমানে গত রবিবারও একই ধরনের পৃথক পৃথক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিলো। এর সত্যতা স্বীকার করে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় তাদের টুইট বার্তায় বলেছিছে তারা ওই সমস্ত লোকদের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন যারা শূন্যপদে নতুন চাকরির খোঁজে এবং চাকরিচ্যুতির সমস্যা সমাধানে জড়ো হয়েছে।

সোহার সিটি যা কি না ওমানের অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র এবং মূল বন্দর শহরও বটে সেখানে ব্যাপকভাবে কর্মী ছাটাই হয়েছে কি না সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওমানে বেসরকারি গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলও এই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশটির রাজকীয় পুলিশও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেনি। ওমানের তথ্য মন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটনের দেশটির দূতাবাসে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারাও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছর সুলতান কাবুসের ইন্তেকালের পর জানুয়ারিতে সুলতান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা সুলতান হাইসাম বিন তারিকের চলমান নতুন শাসনামলে এটিই সর্বপ্রথম বড় কোনো উত্তেজনাকর ঘটনা! চাকরি প্রত্যাশি ওমানি যুবকদের কর্মসংস্থানে এমনিতেই তাদের বহু অর্থের প্রয়োজন তার উপর কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধের অপছায়াও তাদের পিছু ছাড়ছে না, যাদের মধ্যে চীন অন্যতম। তাছাড়া, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে দেওয়া সুবিধাদিও অর্থনৈতিক কারণে পরিপূর্ণভাবে সামাল দিতে সক্ষম হচ্ছে না বলে জানা যায়।

ফেসবুকে লাইক দিন