ওদের মুখে ছাই পড়ুক যারা আমাদের দ্বন্দ্ব দেখে অট্টহাসিতে মেতে উঠেছিল: নুর

ইমান২৪.কম: বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্তৃত্ব নিয়ে ডাকসুর সদ্য সাবেক সভাপতি নুরুল হক নুরের সঙ্গে সংগঠনের আহ্বায়ক রাশেদ খানের দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। রোববার (৪ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নুর জানান, বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক যৌথ আলোচনা সভায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও যুগ্মআহ্বায়ক সোহরাব হোসেনকে স্বপদে বহাল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একইসাথে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুব অধিকার পরিষদের কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বাছাই ও নতুন কমিটি গঠনে স্ব-স্ব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে রাশেদকে বহিষ্কার করে একটি বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকে পোস্ট করেন নুর। এতে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নুরের এমন সিদ্ধান্তে চটে যান রাশেদ। নুরকে দেন পাল্টা চিঠি। এতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা নিয়ে কারণ দর্শাতেও বলা হয়।

এই পাল্টাপাল্টি নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে হঠাৎ ইউটার্ন নেন রাশেদ। তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, তাদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। এর অবসান হয়েছে। রাশেদ লেখেন, ‘দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা বয়সে তরুণ, যে কারণে মাঝে মাঝে বক্তব্য, কথা, কাজের মধ্যে ভুল করে বসি। নুর ও আমার মধ্যে যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটা আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান হয়েছে।’ ভবিষ্যতে চলার পথে আরও বেশি সতর্ক থাকবেন জানিয়ে রাশেদ লেখেন, ‘নুর ও আমার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে সুসম্পর্ক ছিল। ভবিষ্যতেও সম্পর্ক ধরে রেখে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

এদিকে নিজেদের দন্দ্বের অবসানের পর এক ফেসবুক লাইভে এসে নুর বলেন, ‘ওদের মুখে ছাই পড়ুক যারা নুর-রাশেদের দ্বন্দ্ব দেখে অট্টহাসিতে মেতে উঠেছিল, যারা ভেবেছিল ছাত্র অধিকার পরিষদে ভাঙন ধরেছে, ছাত্র অধিকার পরিষদ তথা তরুণদের রাজনীতি ভ্যানিস হয়েছে।’

সেই লাইভে তিনি আরও বলেন, ‘এটি কখনো হবে না। আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতি করছি, কোনো ব্যক্তিস্বার্থে নয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকট থাকে। রাজনীতি করতে গেলে মতপার্থক্য তৈরি হবেই। একটা পরিবারের মধ্যেও দ্বন্দ্ব থাকে৷’

রোববার রাতে নুর বলেন, ‘আমাদের বয়সের ছেলেরা যখন চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছে তখন আমরা দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবছি। এ জন্য আমরা তরুণদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চিন্তা করছি। মানুষ হিসেবে যতটুকু প্রেসার নেওয়ার কথা তার চেয়েও বেশি প্রেসার নিচ্ছি। সেখানে কাজ করতে গেলে মতবিরোধ থাকবেই। এটা সবচেয়ে ভালো দিক যে তর্ক-বিতর্কের পরেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের মাঝে হওয়া দ্বন্দ্বকে কিছু মানুষ রসালোভাবে প্রচার করেছে যে, আমাদের মধ্যে টাকাপয়সার ভাগ-বাঁটোয়ারা, নেতৃত্বের অসম দ্বন্দ্ব নিয়ে সমস্যা হয়েছে।’

নুর জানান, ‘আসলে আমাদের মধ্যে একটি পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আমাদের ছাত্র যুব শ্রমিক পরিষদের নেতারা বসে সেটির সমাধান করেছেন৷ দাগ থেকে দারুণ কিছু হলে দাগই ভালো। সুতরাং তর্ক-বিতর্ক থেকে ভালো কিছু হলে তর্ক-বিতর্কই ভালো।’

ফেসবুকে লাইক দিন