এরদোগানের বিরুদ্ধে আমেরিকার বিবৃতি: কড়া জবাব দিলো তুরস্ক

ইমান২৪.কম: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে বিবৃতি দিয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক।

তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, তুর্কী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আরোপের পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের নিরবিচ্ছিন্ন হামলা বন্ধ করার চেষ্টা করা। বুধবার (১৯ মে) তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব কথা জানা যায়।

বিবৃতিতে কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, ইহুদিবাদী ইসরাইলের জাতিগত, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক নিধনযজ্ঞ পলিসিকে আড়াল করতে এন্টি-স্যামিটিজমের (ইহুদি বিদ্বেষ) কনসেপ্ট ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মন্তব্য ইহুদিদের লক্ষ্য করে করা হয়নি বরং ইহুদিবাদী ইসরাইলের সরকারকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিলো, যাদের হাতে কি না ফিলিস্তিনের অসংখ্য নারী,শিশু ও নিরীহের রক্ত লেগে আছে।

শতাব্দী পূর্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি নিধনের ব্যাপক অনুসন্ধান থেকে বাঁচতে অসংখ্য ইহুদি পালিয়ে এসে তুরস্কে তাদের আবাসস্থল গড়ে তুলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু তাই নয়, তুরস্কের সাহসী কূটনীতিকগণ ইহুদি নিধন চলাকালীন শত শত ইহুদিদের উদ্ধারে সহযোগিতা করেছিলো। তাছাড়া তুরস্কে বসবাসরত ইহুদি নাগরিকরা শতাব্দীর পর শতাব্দী কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়াই শান্তিতে বসবাস করে আসছে।

তাছাড়া ইহুদিবাদের ব্যাপারে এরদোগানের অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোগান বহু আগে থেকেই বলে আসছিলেন যে, ইহুদি বিদ্বেষ হলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও আইন ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলার প্রতিশ্রুতি ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় আসা মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে যে নীতি অনুসরণ করছে তা তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক।

মূলত দখলকৃত ফিলিস্তিনে প্রতিটি মুহুর্তে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে নারী, শিশু হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের জঘন্য অপরাধ করে যাওয়া অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি অস্ত্র চুক্তি হলে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান আল আকসা ও গাজায় ইসরাইলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আমেরিকারও কঠোর সমালোচনা করেন।

গত সোমবার ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে সুস্পষ্ট ভাবে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে তিনি বলেছিলেন, তারা পবিত্র কুদসে সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং নির্মমভাবে জনসাধারণের উপর বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দখলকৃত ফিলিস্তিনের কুদস এবং গাজায় ইসরাইলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যারা সহযোগিতা করছে, শিশু হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কারণে তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ১০ মে থেকে শুরু হওয়া ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান হামলায় ৬৩ জন শিশু ও ৩৬ জন নারীসহ এখন পর্যন্ত মোট ২২১ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং আহতের সংখ্যা ১৫৩০ জন।

ফেসবুকে লাইক দিন