এমন সম্মান শুধু আল্লাহই দিতে পারেন: নতুন সেনাপ্রধান

ইমান২৪.কম: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এটা একটি স্বর্গীয় আর্শীবাদ এবং এমন সম্মান শুধু আল্লাহই দিতে পারেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকালে সামরিক রীতিতে জেনারেল আজিজ আহমেদকে বিদায় জানানোর মধ্যদিয়ে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে বরণ করা হয় সেনাসদরে। সকাল ৯টায় শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তাকে জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হয়। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নতুন সেনাপ্রধানকে জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

আইএসপিআর জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো একটি পেশাদার, সুদক্ষ ও গৌরবমণ্ডিত বাহিনীর নেতৃত্ব (১৭তম সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে) দেওয়ার সৌভাগ্যলাভের জন্য আমি মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এটা একটি স্বর্গীয় আর্শীবাদ এবং এমন সম্মান শুধু আল্লাহই দিতে পারেন। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আমার ওপর আস্থা রেখে এই গুরুদায়িত্ব আমাকে অর্পণ করার জন্য।

সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে তার অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যেতে আমি আপনাদের সবার দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করছি। আমি বিশ্বাস করি যে সবার সহযোগিতায় আমি বাংলাদেশ সরকারের আমার ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে সক্ষম হবো।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার একক নেতৃত্বে সুচিত হয়েছিল মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। আমি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেই শহীদদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ একটি স্বাধীন দেশে গর্বের সঙ্গে বাস করতে পারছি। একই সঙ্গে আমি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সেসব বীর শহীদদের যারা জাতি ও মানবতার কল্যাণে দেশে ও বিদেশে নিজ জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি সব শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

উল্লেখ্য, খুলনার একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নবম বিএমএ লংকোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন পান। গত বছর ডিসেম্বরে তাকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (অ্যার্টডক) জিওসির দায়িত্ব থেকে কিউএমজি করে সেনা সদরে নিয়ে আসা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের আগস্টে মেজর জেনারেল থেকে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন শফিউদ্দিন আহমেদ। পরে তাকে অ্যার্টডকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি লজিস্টিকস এরিয়া, পদাতিক ব্যাটালিয়ন, পদাতিক ব্রিগেডসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের ভ‚মিকায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন শফিউদ্দিন আহমেদ।

ফেসবুকে লাইক দিন